সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে গণ-অভ্যুত্থানের কবিতা সংকলন ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কবিতা’। বইটি প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি। সংকলনের প্রধান সম্পাদক বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম। সংকলনটি সম্পাদনা করেছেন কবি রওশন আরা মুক্তা এবং হাসান রোবায়েত। পাওয়া যাচ্ছে বাংলা একাডেমির বিক্রয়কেন্দ্রে।
Advertisement
এই সংকলন নিয়ে দিনব্যাপী আলোচনা-সমালোচনা চলছে। প্রকাশিত হওয়ার পর অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে পোস্ট করে কবিরা তাদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন।
পলিয়ার ওয়াহিদ লিখেছেন, ‘জুলাইয়ে সরব ছিল এমন কবিরা তো হাতাগোনা! তারপরও জুলাইয়ে চুপ থাকা সুবিধাবাদী, এমনকি সরাসরি শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া কবিরা কীভাবে এই সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হলো? অন্যদিকে জুলাইয়ের পক্ষের কয়েকজন সুপরিচিত কবির কবিতা না দেখে লজ্জা লাগছে! বি. দ্র. জুলাই রাজপথ জুলাইয়ের কবিতা সংকলন করবে। জুলাই রাজপথের মেসেঞ্জারে কবিতা পাঠান। সম্পাদনা পরিষদে বাছাই না হলে কবিতা ছাপা হবে না।’
সানাউল্লাহ সাগর লিখেছেন, ‘বাংলা একাডেমির উদ্যোগটা ভালো। কিন্তু এখানে স্বৈরাচারের দোসরদের নামও দেখতে পাচ্ছি। দুঃখজনক।’
Advertisement
আরও পড়ুন
১০ দিনে ১ লাখ, আড়ালের গল্পটা কেমন? বন্যপ্রাণী পারাপারের ফ্লাইওভারসীমান্ত আকরাম লিখেছেন, ‘বাংলা একাডেমি জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে একটা কবিতা সংকলন প্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকলনে যারা বিপ্লবে মাঠে ময়দানে ছিলো কিংবা কবিতা লেখার মাধ্যমে বিপ্লবকে ধারণ করেছে এরকম গুটি ৫-৬ জনের কবিতা রাখা হয়েছে। বাকি সব অপরিচিত, আজিজ সুপার মার্কেটের কবি বলে খ্যাত, স্বৈরাচারের দোসর, বিপ্লবের বিরোধী কবিদের লেখা বেশি স্থান পেয়েছে।’
মনসুর আজিজ লিখেছেন, ‘ইতোমধ্যে জুলাই আন্দোলনের অনেক কবি সংকলনটি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন। এই সংকলনটি বাতিল করে নতুন করে আরেকটি সংকলন করা দরকার। আর তার দায়িত্ব এমন একজন কবিকে দেওয়া দরকার; যিনি কবিতার খোঁজ-খবর রাখেন ও জুলাই বিপ্লবের স্পিরিটকে ধারণ করেন।’
ফজলুল হক তুহিন লিখেছেন, ‘অভ্যুত্থানের কবিতা প্রকাশের জন্য প্রথমত বাংলা একাডেমিকে ধন্যবাদ জানাই। আমার কাছে চিঠি দিয়ে কবিতা চেয়েছে সম্পাদক। দ্বিতীয়ত নিয়মমাফিক সময়ের মধ্যে হাসান রোবায়েতের ই-মেইলে কবিতা দেওয়ার পরও আমার অভ্যুত্থানের কবিতা প্রকাশিত হয়নি! ফ্যাসিবাদ বিরোধী অনেক গুরুত্বপূর্ণ কবির কবিতা নেই! কেন নেই এর উত্তর দিতে হবে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ ও রোবায়েতকে।’
Advertisement
শান্তা মারিয়া লিখেছেন, ‘বাংলা একাডেমি আবারও প্রমাণ করলো এটি বরাহ নন্দনের মতো অকাল প্রসবী একটি প্রতিষ্ঠান। এটি একটি অশ্বডিম্ব প্রসব করেছে। বাংলা একাডেমি জুলাই বিপ্লব নিয়ে লেখা একটি কবিতা সংকলন প্রকাশ করেছে। সেখানে কবি তালিকার দিকে যদি তাকান তাহলে দেখতে পাবেন যারা জুলাই বিপ্লব চলমান অবস্থায় সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন এবং কবিতা লিখেছিলেন তাদের অধিকাংশ কবির কবিতাই এখানে নেই।’
এসইউ/এমএস