ভাইবোন শুধু রক্তের সম্পর্ক নয়, তারা একে অন্যের জীবনের নানা ওঠানামায় সবচেয়ে কাছের সঙ্গী। ছোটবেলার খুনসুটি থেকে শুরু করে বড় হয়ে একে অপরের ভরসা হয়ে ওঠা—এই সম্পর্ককে মজবুত রাখতে দরকার যত্ন ও বোঝাপড়া।
Advertisement
২০২২ সালে আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভাইবোনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক শিশুর আচরণ, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা ও মানসিক সুস্থতায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
একইভাবে, ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টার এর ২০১8 সালের এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়, ভাইবোনের শক্তিশালী বন্ধন পারিবারিক সমস্যার নেতিবাচক প্রভাব থেকে শিশুদের মানসিকভাবে সুরক্ষিত রাখে।
অন্যদিকে ২০২৫ সালে সাইকোলজি টুডে-তে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণ জানায়, ভাইবোনের খারাপ সম্পর্ক উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মসম্মান কমে যাওয়ার মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
Advertisement
অর্থাৎ, ভাইবোনদের মধ্যে সুস্থ ও সমর্থনমূলক সম্পর্ক মানসিক সুস্থতা ও সামাজিক স্থিতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই আজীবন সম্পর্ককে মজবুত রাখতে একটু যত্ন নিন। মেনে চলুন এই ৫ টিপস্ -
১. একে অপরকে সময় দিন বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ত জীবনে অনেক সময় ভাইবোনের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায়। কিন্তু নিয়মিত খোঁজখবর রাখা, ফোনে কথা বলা কিংবা মাঝে মাঝে একসঙ্গে সময় কাটানো সম্পর্কের বন্ধনকে শক্ত করে।
২. সম্মান দেখানভাইবোনদের মধ্যে মতবিরোধ হওয়া স্বাভাবিক। তবে প্রত্যেকের ব্যক্তিত্ব, পছন্দ-অপছন্দকে সম্মান করলে সম্পর্ক নষ্ট হয় না। সম্মানিত বোধ করলে বন্ধনও দৃঢ় হয়।
ছোট ভাইবোন বড় হয়ে গেলে তাদের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মনে করা জরুরি। তাদের মতামত গুরুত্ব দিন। বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ করুন।
Advertisement
৩. ভাগাভাগি করুন অনুভূতিশুধু আনন্দ নয়, দুঃখ-কষ্টের মুহূর্তও ভাইবোনের সঙ্গে ভাগাভাগি করুন। গবেষণা বলছে, যারা খোলাখুলি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে, তাদের পারিবারিক সম্পর্ক আরও ইতিবাচক হয়।
৪. একে অপরকে সহযোগিতা করুনপ্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোই ভাইবোনের সম্পর্কের আসল সৌন্দর্য। পড়াশোনা, কাজ বা পারিবারিক সমস্যা — যে কোনো সংকটে পাশে থাকার চেষ্টা করুন। এতে ভরসা তৈরি হয়।
৫. পুরোনো স্মৃতি জিইয়ে রাখুনছোটবেলার ছবি দেখা, মজার স্মৃতি মনে করা কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠান একসঙ্গে পালন করা সম্পর্ককে আরও উষ্ণ করে তোলে। কারণ যৌথ স্মৃতি পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী করার অন্যতম উপায়।
ভাইবোনের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো ভালোবাসা, বোঝাপড়া ও সম্মান। এই পাঁচটি ছোট্ট অভ্যাস মেনে চললে সম্পর্ক শুধু টিকে থাকবে না, বরং জীবনের সবচেয়ে সুন্দর আশ্রয় হয়ে উঠবে।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশ, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, সাইকোলজি টুডে
এএমপি/জেআইএম