অনেকেই ভাবেন জলপাইয়ের মতো টকজাতীয় ফল শুধু নারীরাই খান। আবার অনেকে শুধুই জলপাইয়ের আচার খান। কিন্তু ছোট্ট এই সবুজ মৌসুমি ফলটি সবার জন্যই এক অনন্য পুষ্টির উৎস হতে পারে।
Advertisement
জলপাইয়ে আছে ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ এমন অনেক উপাদান যা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক জলপাই আপনার শরীরের কী কী কাজে আসে-
১. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়জলপাইয়ে রয়েছে মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা ‘ভালো ফ্যাট’ হিসেবে পরিচিত। গবেষণা বলছে, এই ফ্যাট রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল (এইচ ডি এল) বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত জলপাই খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
২. শরীরে প্রদাহ কমায়‘ইউরোপিয়ান জার্নাল অব নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, জলপাইয়ের পলিফেনল ও ওলিওকান্থাল নামের যৌগগুলো প্রদাহবিরোধী উপাদান হিসেবে কাজ করে। এগুলো শরীরে জমে থাকা ফ্রি র্যাডিক্যাল দূর করে এবং কোষের ক্ষয়রোধে সহায়তা করে।
Advertisement
জলপাইয়ে থাকা ভিটামিন ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে। এটি ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং বার্ধক্যের ছাপ কমায়। নিয়মিত জলপাই খেলে বা জলপাই তেল ব্যবহার করলে চুল শক্ত ও উজ্জ্বল হয়।
৪. হজমে সহায়তা করেজলপাইয়ে আছে প্রাকৃতিক ফাইবার, যা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়া এটি অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়, ফলে হজম শক্তি বাড়ে।
৫. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে‘জার্নাল অব ফুড সায়েন্স অ্যান্ড নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, জলপাইয়ে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। এতে ইনসুলিন সংবেদনশীলতাও বৃদ্ধি পায়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।
কীভাবে খাবেনজলপাই শুধু আচার নয়—সালাদ, স্মুদি বা রান্নায় টপিং হিসেবেও খাওয়া যায়। আবার জলপাই তেল বা অলিভ ওয়েল রান্না বা সালাদ ড্রেসিংয়েও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত তেল বা নোনতা আচারে জলপাই খাওয়া ঠিক নয়।
Advertisement
জলপাইয়ের আচার বা প্রিজার্ভড জলপাইয়ে অনেক সময় অতিরিক্ত লবণ বা ভিনেগার থাকে, যা উচ্চরক্তচাপের রোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
সূত্র: ইউরোপিয়ান জার্নাল অব নিউট্রিশন, জার্নাল অব ফুড সায়েন্স অ্যান্ড নিউট্রিশন, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন
এএমপি/জেআইএম