ফাত্তাহ তানভীর রানা
Advertisement
জাবাল আন-নূর হলো একটি পর্বত; যা সৌদি আরবের হেজাজ অঞ্চলের মক্কার নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত। এই পাহাড় মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্বতটি হেরা গুহার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এখানেই হযরত মোহাম্মদের (সা.) কাছে প্রথম কুরআন অবতীর্ণ হয়। হেরা গুহায় সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত ফেরেশতা জিবরাঈলের (আ.) মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল।
জাবালে নূর বর্তমানে মক্কার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। এর উচ্চতা ৬৪০ মিটার (২১০০ ফুট)। এই পর্বতের চূড়ায় উঠতে এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। পর্বতের চূড়ায় উঠে কিছু পথ নামলে হেরা গুহা। সেখান থেকে হেরা গুহার কাছে পৌঁছতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লাগে।
বর্তমানে যেখানে উঠতে শক্তিশালী ও সামর্থবান মানুষের প্রায় ১ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। প্রায় ২১০০ ফুট উচ্চতার ভয়ংকর পথ পাড়ি দিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে বেশ কয়েকবার বিশ্রাম নিতে হয়। সমতল ভূমি থেকে পাহাড়ের ওপরের দিকে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ ফুট পথ গাড়িতে যাওয়া যায়। সেখান থেকে ৮৯০ ফুট উচ্চতায় হেরা গুহা অবস্থিত। হেরা গুহায় যেতে আরও প্রায় ১০০ ফুট রাস্তা পাড়ি দিতে হয়।
Advertisement
আরও পড়ুননীরব সৌন্দর্যের শহর স্ট্যানলি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বিস্ময়কর ভ্রমণ
জাবালে নূর অন্যান্য পাহাড় ও টিলা থেকে আলাদা। তার কারণ এর অস্বাভাবিক চূড়া। এটি দেখতে এমন, মনে হয় যেন দুটি পাহাড় একটির ওপর আরেকটি অবস্থান করছে। এই পাহাড়ের চূড়া, যা একটি শুষ্ক মরুভূমির মধ্যে অবস্থিত। পৃথিবীর সবচেয়ে নির্জন স্থানগুলোর একটি। এর ভেতরে থাকা গুহাটি, যা কাবার দিক বরাবর অবস্থিত।
অনেকেই মহানবীর (সা.) স্মৃতিবিজড়িত এই পাহাড় দেখতে যান এবং হেরা গুহায় নামাজ আদায় করেন। সেখানে একজনের বেশি লোক নামাজ আদায় করা কষ্টকর হয়ে যায়। এখন আশপাশের পাথরগুলোর সঙ্গে শত শত মিটার নিচে এবং অনেক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত বিস্তৃত ভবনগুলো দেখা যায়। হেরা গুহা পানিহীন ও উদ্ভিদহীন। কয়েকটি কাঁটাযুক্ত গাছপালা ছাড়া।
পাহাড়টি মূলত অন্তর্ভেদী আগ্নেয় শিলা দিয়ে গঠিত। এর বেশিরভাগ অংশ প্রাকক্যামব্রিয়ান বয়সের। মোটা দানার হর্নব্লেন্ড টোনালাইট দ্বারা গঠিত। এ ছাড়া অল্প পরিমাণে গ্রানোডিওরাইট আছে। বেশিরভাগ হাজি ও ভ্রমণকারী মক্কায় গেলে জাবালে নূর পাহাড়টি দেখতে যান। কেননা এই পাহাড়ের হেরা গুহায় প্রিয় নবী (সা.) ওহি লাভের আশায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন।
Advertisement
এসইউ