লাইফস্টাইল

শীতে কানের ব্যথায় ভোগে শিশু? জেনে নিন সমাধান

প্রচণ্ড শীতের সময়ে অনেক শিশুই কানের যন্ত্রণায় কষ্ট পায়। কখনও সাধারণ ঠান্ডা লাগা থেকে, আবার কখনও সংক্রমণের কারণে ছোটদের কানে ব্যথা শুরু হয়। এই সমস্যা অবহেলা করলে ধীরে ধীরে জটিল আকার নিতে পারে। তাই বাবা-মায়ের সচেতন থাকা খুবই জরুরি।

Advertisement

শীতকালে কানের সমস্যা কেন বাড়ে?

শীতের দিনে ঠান্ডা লাগা, সর্দি-কাশি কিংবা ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি কানে পড়ে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বহিঃকর্ণ ও মধ্যকর্ণে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে কানে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় সাইনাসের সমস্যাও এর জন্য দায়ী। সর্দি জমে থাকা মিউকাস যদি কানের পর্দার পেছনের অংশে পৌঁছে যায়, তবে সেখানে জীবাণুর বংশবিস্তার হয়। এর ফলেই কান দিয়ে পানি বা পুঁজ বেরোনো, চুলকানি এবং তীব্র ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

এ ছাড়া যেসব শিশু অ্যালার্জিজনিত সর্দি বা অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে ভোগে তাদের কানে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি। অ্যালার্জির কারণে নাক ও কানের ভেতরের নালিতে ফোলাভাব তৈরি হলে ব্যথা আরও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন:  ফিটনেস ট্রেন্ড নয়, ঘরোয়া অভ্যাসেই সুস্থ মালাইকা শীতে প্রতিদিন গোসল, উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি শীতে শিশুর গোসল নিয়ে দুশ্চিন্তা? মানুন চিকিৎসকের পরামর্শ কানের ব্যথা কমাতে কী করবেন?

শিশুর কানে হালকা ব্যথা শুরু হলে প্রাথমিকভাবে গরম সেক দেওয়া যেতে পারে। এতে সাময়িক আরাম মেলে। তবে কানের ভেতরে তেল, ক্রিম বা ঘরোয়া কোনও তরল ব্যবহার করা একেবারেই ঠিক নয়। এতে কানের পর্দা ও ভেতরের ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

Advertisement

অনেক অভিভাবক ব্যথা কমাতে নিজে থেকেই ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ান, যা নিরাপদ নয়। প্যারাসিটামল বা অন্য কোনও ওষুধ দেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

যদি ওষুধ বা ড্রপ ব্যবহারের পরও ৬-৭ সপ্তাহ ধরে ব্যথা থেকে যায়, তবে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এটি দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে, তাই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

খাবার ও পানীয়ের ভূমিকা

শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খাওয়ানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পানির ঘাটতি হলে সংক্রমণ ও ব্যথা দুটোই বাড়তে পারে। স্যুপ, কুসুম গরম পানি বা তরলজাত খাবার এই সময়ে উপকারী।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন

কান দিয়ে পুঁজ বা রক্ত বের হলে, শিশুর শোনার ক্ষমতা কমে গেলে কিংবা বারবার জ্বর আসতে থাকলে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে কানের সমস্যা ভবিষ্যতে আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। শীতের দিনে সামান্য কানের ব্যথাকেও অবহেলা না করে সচেতন হলেই শিশুদের বড় ধরনের জটিলতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

Advertisement

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন

জেএস/