উগ্র ধর্মীয় সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ ও হুমকির মুখে বাংলাদেশ পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দিতে বলেছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিসিআই। সে নির্দেশ মেনে বাদ দিয়েছে কেকেআর। তারই প্রতিবাদে বাংলাদেশের ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নিলো। বিশ্ব ক্রিকেটের অভিভাবক আইসিসির কাছে সেই দাবি সম্বলিত দু’দফা চিঠিও দিয়েছে বিসিবি।
Advertisement
বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি অনড়, অনমনীয়। কিছুতেই ভারতে যাবে না— এমন অবস্থানেই তারা অটল। হয়তো আজ-কালের মধ্যেই আইসিসির নির্দেশনাও চলে আসবে।
এমন অবস্থার মধ্যেই বাংলাদেশেরই আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত যে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ পরিচালনা করছেন, সে খবর রাখেন কয়জন?
আজ ১১ জানুয়ারি ভারতের বরোদায় (বর্তমান নাম ভদোদরা) ভারত ও নিউজিল্যান্ডের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হয়েছে। সেই সিরিজে টিভি আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত।
Advertisement
এত হই চই, উত্তেজনা, বিবৃতি-পাল্টা বিবৃতি আর চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেও শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত ভারত–নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজে নিউট্রাল আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই তখন প্রশ্ন জাগে— তবে কি আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও সৈকত ভারতের মাটিতে খেলা পরিচালনা করবেন?
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, হ্যাঁ— অবশ্যই করবেন।
কারণ, তিনি আইসিসি এলিট প্যানেলের অন্যতম সদস্য। আইসিসির নিরপেক্ষ আম্পায়ার হিসেবে তিনি ভারত–অস্ট্রেলিয়া, এমনকি ইংল্যান্ড–অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ সিরিজেও ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই তিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও থাকবেন।
বাংলাদেশ কিছুতেই ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে না— এই বার্তাই বারবার দেওয়া হচ্ছে সরকার ও বিসিবির পক্ষ থেকে। সেখানে সৈকতকে ভারতের মাটিতে আগে ওয়ানডে সিরিজ এবং পরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পরিচালনার দায়িত্ব পালনের অনুমতি দিল কে?
Advertisement
এটা কি বিসিবির এখতিয়ার? বিসিবি কি চাইলে সৈকতকে ভারতে গিয়ে খেলা পরিচালনা থেকে বিরত রাখতে পারে?
সংশ্লিষ্ট সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারের সর্বোচ্চ মহল ছাড়া এখানে বিসিবির আসলে কিছুই করার নেই। কারণ এলিট প্যানেলের আম্পায়ার হিসেবে সৈকত এখন পুরোপুরি আইসিসির অধীনে। তিনি কোথায়, কোন সিরিজ বা টুর্নামেন্টে খেলা পরিচালনা করবেন— তা নির্ধারণ করে আইসিসিই।
বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতিখার রহমান মিঠু এ বিষয়ে জাগো নিউজকে জানান, ‘যে মুহূর্তে সৈকত এলিট প্যানেলের আম্পায়ার হয়েছে, সেই মুহূর্ত থেকেই সে আইসিসির আম্পায়ার। কোনো আইসিসি ইভেন্টে তার ম্যাচ পরিচালনা একরকম বাধ্যতামূলক। আইসিসির নির্দেশিত ম্যাচ বা টুর্নামেন্ট কভার না করলে সে এলিট প্যানেলেও থাকতে পারবে না।’
প্রশ্ন উঠতেই পারে—আইসিসির বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিসিবি কি সৈকতকে অনুমতি না দিতে পারত না? তিনি কি বিসিবির অনুমতি বা ছুটি নিয়ে ভারত–নিউজিল্যান্ড সিরিজ কভার করতে গেছেন?
এ প্রসঙ্গে ইফতিখার রহমান মিঠুর ব্যাখ্যা, ‘আমাদের—তথা বিসিবির সঙ্গে সৈকতের চুক্তিটাই এমন যে, তিনি যখনই আইসিসির কোনো অ্যাসাইনমেন্ট পান, তখন আলাদা করে ছুটির আবেদন করতে হয় না। তিনি বিনা ওজরেই যেতে পারেন। যদি চুক্তিপত্রে এমন থাকত যে আইসিসির নিরপেক্ষ আম্পায়ার হলেও তাকে বিসিবির অনুমতি নিয়ে ছুটির দরখাস্ত করতে হবে, তাহলে ভিন্ন কথা ছিল। কিন্তু আম্পায়ার সৈকতের সঙ্গে বিসিবির চুক্তিপত্রে তেমন কিছু নেই। তাই তার কোথাও যেতে বিসিবির আনুষ্ঠানিক অনুমতি লাগে না। ভারত–নিউজিল্যান্ড সিরিজেও লাগেনি।’
এটুকু বলেই কথা শেষ করেন বিসিবি আম্পায়ার্স কমিটির প্রধান। যে কথাটি তিনি বলেননি, কিন্তু স্পষ্টভাবেই বোঝা যায়—ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ঠিকই ম্যাচ পরিচালনায় থাকবেন সৈকত, বাংলাদেশ দল সেখানে যাক আর না যাক।
এআরবি/আইএইচএস