রাজনীতি

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেলায় পক্ষপাতিত্ব করছে ইসি: হাসনাত কাইয়ূম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৈধতা পাওয়ার পরে তিনি তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে বাদ দিতে কাজ করছে ইসি।

Advertisement

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) এ অনুষ্ঠিত তৃতীয় দিনের আপিল শুনানিতে তার আপিল মঞ্জুর করে ইসি।

শুনানি শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, গতকাল স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নিয়ে দেখেছি, তাদের অভিজ্ঞতা আমার চেয়েও ভয়াবহ। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে বাদ দিতে মাঠপর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক আপিল ও আপিল মঞ্জুরের হার দেখলেই বোঝা যায় স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তারা বড় দলগুলোর প্রভাবে কতটা প্রভাবিত।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকর্তাদের দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করলে কোনোভাবেই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।

Advertisement

নির্বাচন কমিশনকে মাঠপর্যায়ে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এখনো পূর্ববর্তী সরকারের সময়কার আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো ব্যবহার করে নির্বাচন পরিচালনা করছে। মাঠপর্যায়ে নির্বাচন কর্মকর্তা নন, আমলারা নির্বাচন পরিচালনা করছেন, যা নির্বাচনের পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

হাসনাত কাইয়ূম সতর্ক করে বলেন, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতা বদলের নয়, এটি সংবিধান সংস্কারের দিকেও যেতে পারে। এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হলে দেশ বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। সেই দায় শুধু নির্বাচন কমিশনের ওপর পড়লেও ভোগান্তি পোহাতে হবে সাধারণ মানুষকেই। কারণ, বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। নির্বাচন কমিশনে গত ৫ জানুয়ারি আপিল গ্রহণ শুরু হয়ে ৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) শেষ হয়। এর আগে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৭২৩টি মনোনয়ন বাতিল করেন।

শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শুরু হয়েছে, চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

Advertisement

সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

এমওএস/এসএনআর/এমএস