ডেনমার্কের মালিকানাধীন বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা পেতে একের পর লাগামহীন মন্তব্য করে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যে কোনো উপায়ে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এ দ্বীপের মালিকানা মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
Advertisement
রোববার (১১ জানুয়ারি) নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা ‘মনস্তাত্ত্বিকভাবে আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ’।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে বিষয়টি তিনি ‘সঠিকভাবে’ মীমাংসা করতে চান। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র যেন ওই ভূখণ্ডের মালিকানা গ্রহণ করে কারণ এর মালিকানা মার্কিন ‘সাফল্যের জন্য মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রয়োজনীয়।’
ট্রাম্প বলেন, ‘মালিকানা আপনাকে এমন কিছু সুযোগ-সুবিধা ও উপাদান দেয়, যা শুধু কোনো নথিতে স্বাক্ষর করে পাওয়া যায় না। সেখানে আপনার একটি ঘাঁটিও থাকতে পারে।’
Advertisement
গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সেনা মোতায়েনের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তিনি মনে করেন ‘এটা প্রয়োজন হবে না’। যদিও এর আগে তিনি এটাও বলেছিলেন যে প্রয়োজন হলে সেখানে ‘আরও বেশি’ সেনা থাকবে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রতিরক্ষা কমিশনার আন্দ্রিয়ুস কুবিলিউস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বলপ্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখল করার চেষ্টা করে তবে তা ন্যাটোর সমাপ্তি ডেকে আনবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোও ডেনমার্কের সহায়তায় এগিয়ে আসতে বাধ্য থাকবে।
এছাড়া ২১ লাখ ৬৬ হাজার বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব এবং ভূভাগের অখণ্ডতা রক্ষায় একজোট হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের ক্ষমতাধর ছয়টি দেশ। দেশগুলো হচ্ছে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন এবং যুক্তরাজ্যে।
তবে ট্রাম্পের অভিযোগ, গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলে রুশ ও চীনা বাহিনীর সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে এবং গ্রিনল্যান্ড দ্বীপ রক্ষা করার সক্ষমতা ডেনমার্কের নেই। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন।
Advertisement
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান/রয়টার্স
কেএম