লাইফস্টাইল

শীতের সবুজ সঙ্গী মটরশুঁটি, জানুন ৫ স্বাস্থ্যগুণ

শীতের আকাশে হালকা রোদ, বাতাসে ঠান্ডা হাওয়া এমন সময়ে আমাদের খাবারের তালিকাতেও আসে বিশেষ সবজি। তার মধ্যে একটি হলো মটরশুঁটি। ছোট ছোট সবুজ দানার মধ্যে লুকিয়ে আছে প্রোটিন, ফাইবার এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা শরীরকে করে শক্তিশালী, অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং চোখ ও ত্বককে রাখে সুস্থ।

Advertisement

শুধু স্বাদেই নয়, স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও মটরশুঁটি শীতের দিনে আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এক কার্যকর সঙ্গী। আসুন জেনে নেই মটরশুঁটির পাঁচটি মূল উপকারিতা।

মটরশুঁটির পুষ্টিমান অনেকটাই নির্ভর করে এটি কীভাবে রান্না করা হচ্ছে তার ওপর। যেমন-তেল বা মাখন দিয়ে রান্না করলে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়। সেদ্ধ করার তুলনায় ভাপে রান্না করলে পুষ্টি উপাদান বেশি অক্ষুণ্ন থাকে। চাইলে কাঁচাও খাওয়া যায় মটরশুঁটি। লবণ ছাড়া এক কাপ সেদ্ধ মটরশুঁটিতে থাকে প্রায় ১৩৪ ক্যালোরি। পাশাপাশি এতে পাওয়া যায়- ৪১ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন কে, ১০১ মাইক্রোগ্রাম ফোলেট, ২৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ২ মিলিগ্রাম জিঙ্ক, ৬২ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম, ২.৫ মিলিগ্রাম আয়রন।

Advertisement

মটরশুঁটির স্বাস্থ্য উপকারিতা

শরীরকে শক্তিশালী করে: প্রতি কাপ মটরশুঁটিতে প্রায় ৮ গ্রাম প্রোটিন থাকে। এটি উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস, বিশেষ করে যারা নিরামিষভোজী। মাংসজাত প্রোটিনের তুলনায় মটরশুঁটির প্রোটিন সহজে হজম হয়। প্রোটিন শরীরের পেশী, টিস্যু ও অঙ্গ গঠন ও মেরামতে সহায়তা করে। পাশাপাশি চুল, ত্বক ও হাড় সুস্থ রাখে, হরমোন ও এনজাইমের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে এবং শক্তি জোগায়।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে: এক কাপ রান্না করা মটরশুঁটিতে প্রায় ৯ গ্রাম ফাইবার থাকে। এর বেশিরভাগই অদ্রবণীয় ফাইবার, যা মল চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত পর্যাপ্ত আঁশ গ্রহণ করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে এবং অন্ত্রের সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত হয়।

আরও পড়ুন:

Advertisement

বাঁধাকপি খাওয়ার আগে জানুন ধোয়ার সঠিক নিয়ম চোখের আলো থেকে ত্বকের জেল্লা সবই মিলবে গাজরে শীতে আঙুর খাওয়ার উপকারিতা

স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে: প্রোটিন ও ফাইবার হজম হতে সময় নেয়, ফলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূত হয়। এতে অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। তাই মটরশুঁটি নিয়মিত খেলে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বাড়ানো বা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

প্রদাহ কমাতে সহায়ক: মটরশুঁটিতে রয়েছে উদ্ভিদজাত ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ও পলিফেনল, যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এগুলো শরীরের ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কোষ ও টিস্যুকে রক্ষা করে। ফ্রি র‍্যাডিকেলের কারণে প্রদাহ বেড়ে হৃদরোগ, ক্যানসারসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

চোখ ও ত্বক সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে: মটরশুঁটিতে প্রচুর পরিমাণে লুটেইন ও জিএক্সানথিন থাকে। এই ক্যারোটিনয়েড উপাদানগুলোই মটরশুঁটির উজ্জ্বল সবুজ রঙের জন্য দায়ী। গবেষণায় দেখা গেছে, লুটেইন ও জিএক্সানথিন চোখকে ক্ষতিকর নীল আলো থেকে সুরক্ষা দেয় এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে ত্বককেও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন

জেএস/