অর্থনীতি

সুনীল অর্থনীতি উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারে আঞ্চলিক সংলাপ শুরু

বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে টেকসই সুনীল অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনোমি উন্নয়নের জন্য অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক সংলাপ।

Advertisement

এ সংলাপের মূল লক্ষ্য সুনীল অর্থনীতির কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, বন্দর ও জাহাজ যোগাযোগ উন্নয়ন, অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ সম্প্রসারণ, জলবায়ু অভিযোজন ও দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার এবং বিজ্ঞান ও নীতির সংযোগ শক্তিশালী করা।

পাশাপাশি মৎস্য ও পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার একটি বাস্তবভিত্তিক রোডম্যাপ প্রণয়ন এ সংলাপের অন্যতম উদ্দেশ্য। এখান থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলোর আলোকে একটি আঞ্চলিক অবস্থানপত্র ‘ঢাকা ঘোষণা’ প্রণীত হবে, যা ভবিষ্যতের আন্তঃআঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংলাপে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের যৌথ অবস্থান তুলে ধরবে।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত এ সংলাপের শিরোনাম ‘নর্থইস্ট ইন্ডিয়ান ওশান রিজিওনাল ডায়ালগ অন সাসটেইনেবল ব্লু ইকোনোমি, কানেক্টিভিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর স্মল আইল্যান্ড ডেভেলপিং স্টেটস (সিডস)’।

Advertisement

সংলাপটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন, মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা) ও পিস অ্যান্ড পলিসি সল্যুশনস। এতে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশগ্রহণ করছেন।

মঙ্গল ও বুধবার চলা এ সংলাপে মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতার রোডম্যাপ প্রণয়নে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ওপিআরআই) সভাপতি অধ্যাপক মিতসুতাকু মাকিনো বলেন, ‘ভারত মহাসাগর- যা অনেক সময় ‘গ্রেট মিডল বে’ নামে পরিচিত- তা ত্রিশটিরও বেশি দেশ ও প্রায় তিন বিলিয়ন মানুষকে সংযুক্ত করে। জাপানের জন্য এই মহাসাগর কেবল একটি গুরুত্বপূর্ণ মেরিটাইম করিডরই নয়, বরং একটি যৌথ পরিসর; যেখানে আমাদের পারস্পরিক ভাগ্য গভীরভাবে জড়িত।’

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গোপসাগর বিশ্বের সবচেয়ে বড় উপসাগর। বাংলাদেশ যদি তার সমুদ্রসীমার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায়, তবে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অংশীদারিত্বে আরও উচ্চমাত্রায় কাজ করতে হবে।’

Advertisement

তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকারের মহেশখালীকেন্দ্রিক উপকূলীয় উন্নয়ন ও কৌশলগত অবকাঠামো বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা হিসেবে মিডা জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে সরকারের ২০টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার চিহ্নিত মৎস্য ও সামুদ্রিক বিষয়-সংক্রান্ত অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করবে।

এ সহযোগিতার আওতায় জাপানের সুনীল অর্থনীতি মডেল এবং উমিগিও (সমুদ্রকেন্দ্রিক উপকূলীয় উন্নয়ন) পদ্ধতি মহেশখালী এলাকায় প্রয়োগের সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণ, মৎস্য ও উপকূলীয় পর্যটন নিয়ে ভিত্তি জরিপ এবং জেটি, স্বয়ংক্রিয় মৎস্য অবতরণকেন্দ্র ও তাপমাত্রা-নিয়ন্ত্রিত সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা, সামুদ্রিক খামার, সামুদ্রিক খাবার প্রক্রিয়াকরণ ও সমুদ্র নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি জ্ঞান অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন মালদ্বীপের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আবদুল্লাহ সিয়াজ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. এমাদুল ইসলাম। আরও বক্তব্য দেন মিডার সদস্য কমোডর তানজিম ফারুক, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ এবং পিস অ্যান্ড পলিসি সল্যুশনসের উপদেষ্টা ড. মুগধো মাহজাব।

আইএইচও/একিউএফ/জেআইএম