অর্থনীতি

সোনালী ব্যাংকে ঋণ কেন্দ্রীভূত কমাতে অ্যাকশন প্ল্যানে কাজ চলছে

সোনালী ব্যাংক অতিরিক্ত ঋণ কনসেন্ট্রেশন বা কেন্দ্রীভূত পরিস্থিতি কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট শাখাভিত্তিক অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন করছে। প্রতিষ্ঠানটির পাঁচটি শাখায় বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণ বন্ধ রেখে অন্যান্য শাখার মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

Advertisement

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শওকত আলী খান। এসময় ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শওকত আলী বলেন, ‘আমাদের কিছু কনসেন্ট্রেটেড শাখায় ঋণের পরিমাণ বেশি হয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে নতুন ঋণ দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। পাঁচটি শাখায় ঋণ কনসেন্ট্রেশন ৪৪ শতাংশ- এমন তথ্য সঠিক নয়, প্রকৃতপক্ষে তা ৩৭ শতাংশ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের এমওইউ (সমঝোতা স্মারক) রয়েছে এবং আমরা নির্দিষ্ট সময়সীমার অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী কাজ করছি।’

তিনি জানান, ওই পাঁচটি শাখায় বড় ঋণ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে এবং অন্যান্য শাখা থেকে বিভাগভিত্তিক ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। এর ফলে ধীরে ধীরে ঋণ কনসেন্ট্রেশন কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Advertisement

৭৪৫ কোটি টাকা আদায়সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সোনালী ব্যাংকের এমডি বলেন, শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৪৫ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। আদায় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মোট বকেয়া ও খেলাপি ঋণের বিস্তারিত পরিমাণ সাংবাদিকদের লিখিতভাবে দেওয়া হবে।

তিনি জানান, এই ২০ খেলাপির মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা এবং সেখান থেকে নিয়মিত আদায় হচ্ছে।

আমানত নিয়ে উদ্বেগ নেইআমানত সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শওকত আলী বলেন, ‘সোনালী ব্যাংকের প্রতি দেশের মানুষের আস্থা অনেক বেশি। আমানতকারীদের জন্য এটি একটি আশীর্বাদ। আমানত আহরণে আমাদের আলাদা কোনো বিশেষ উদ্যোগ নিতে হয় না। মানুষ স্বেচ্ছায় নিরাপত্তার কারণে এখানে টাকা রাখে।’

তিনি বলেন, ‘তবে আমানত দ্রুত বাড়লেও ঋণ বিতরণে যাচাই-বাছাই ও সতর্কতার কারণে সময় লাগে। বিশেষ করে হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর বড় ঋণ বিতরণে আমরা অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছি।’

Advertisement

পুনঃতফসিল বাড়ছেসভায় ব্যাংকের চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) জানান, গত এক বছরে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা পুনঃতফসিল করা হয়েছে। আদালত-সংশ্লিষ্ট ঋণ পুনঃতফসিল হলে মামলাও নিষ্পত্তি হচ্ছে। তবে গ্রাহক পুনরায় খেলাপি হলে আইনগত ব্যবস্থা আবারও কার্যকর হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী ১০৯ জন ইচ্ছাকৃত খেলাপিকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

আমানত বেড়েছেসভায় জানানো হয়, আমানত ৯ শতাংশ বাড়লেও ঋণ বেড়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে আমানতের খরচ বাড়ায় নিট সুদ মার্জিনে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে আগামী বছর ব্যাংকের পারফরম্যান্স আরও ভালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

হলমার্কের সম্পত্তি নিয়ে অগ্রগতিহলমার্ক গ্রুপের বন্ধকী সম্পত্তি উদ্ধারে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে এমডি বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আমরা আশা করছি, এসব সম্পত্তি থেকে উল্লেখযোগ্য আদায় সম্ভব হবে। তাছাড়া হলমার্ক থেকে এরই মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা আদায় হয়েছে।’

ইএআর/একিউএফ/জেআইএম