ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে এরফান সোলতানি নামে এক তরুণকে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ফাঁসি দিতে চলেছে কর্তৃপক্ষ। দেশটিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া প্রথম ব্যক্তি হতে যাচ্ছেন তিনি।
Advertisement
নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হেনগাও জানিয়েছে, তেহরানের বিপরীত পাশে ফারদিস এলাকার বাসিন্দা এরফান সোলতানিকে ছয়দিন আগে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। দ্রুততার সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করে বুধবারই তাকে ফাঁসি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। সরকারের বিরোধী কণ্ঠ দমাতে তেহরান প্রশাসন যে কঠোর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে, এরই অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছে তারা।
কে এই এরফান?ডেইলি মেইলের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী এরফান স্থানীয় একটি পোশাকের দোকানের মালিক।
এরফানের পরিবার গত সোমবার তার মৃত্যুদণ্ডের খবর পায়। অভিযোগ বা বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো তথ্য তাদের দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে হেনগাও। সংগঠনটির প্রতিনিধি আরিনা মোরাদি ডেইলি মেইলকে বলেন, পরিবারটি ‘ভীষণভাবে হতবাক ও হতাশাগ্রস্ত’।
Advertisement
আরও পড়ুন>>ট্রাম্প হুমকি দিলেও ইরানে হামলা চালানো যে কারণে কঠিনইরান ইস্যুতে পশ্চিমা মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের ঝড়ইরান ইস্যুতে আরব বিশ্ব চুপ কেন?ইরানে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে বিক্ষোভ, সরকারের পক্ষে বিশাল সমাবেশ
তিনি জানান, গ্রেফতারের পর কয়েকদিন তার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। হঠাৎ করেই পরিবারকে ফোন করে জানানো হয় তাদের ছেলেকে বুধবার ফাঁসি দেওয়া হবে। সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ফাঁসির আগে তাকে মাত্র ১০ মিনিট পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হবে।
তবে কী অভিযোগে তার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। কর্তৃপক্ষ শুধু জানিয়েছে, তিনি ফারদিস এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।
এরফানের বোন একজন আইনজীবী হলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ইরানি কর্তৃপক্ষ তাকে ভাইয়ের মামলার নথিপত্র দেখার সুযোগ দেয়নি।
Advertisement
ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নতুন কিছু নয়। নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর থেকে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে প্রায় এক হাজারে পৌঁছেছে। সংগঠনটির তথ্য বলছে, কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডের প্রায় ৯৯ শতাংশই হত্যা বা মাদকসংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। তবে অধিকারকর্মীরা বলছেন, সরকার যখন হুমকি অনুভব করে তখন এই হার আরও বেড়ে যায়।
এদিকে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যাও ভয়াবহ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৭১ জনের মৃত্যু তারা নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪৭ জন সরকারের পক্ষের লোক।
হেনগাওয়ের হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার ৪৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রথম মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়ছেন ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকেএএ/