মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীদের দ্রুত বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান সরকার। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দেশটির প্রধান বিচারপতি গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেইর মন্তব্যের পর মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে শিগগির বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে।
Advertisement
২৬ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানিকে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোরে ফাঁসি দেওয়ার কথা ছিল বলে জানা গেছে। তবে তা কার্যকর হয়েছে কি না নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাধারণত ভোরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
সোলতানির এক স্বজন সিএনএনকে বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ হতবাক। মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখছি। মানুষ ট্রাম্পের কথায় ভরসা করে রাস্তায় নেমেছিল। আপনাদের কাছে অনুরোধ, এরফানকে যেন ফাঁসি দেওয়া না হয়।’
বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র খুবই কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের গোয়েন্দা মূল্যায়নের সূত্র উল্লেখ করে রয়টার্স প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ট্রাম্প ইরানে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যদিও কী মাত্রায় পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা এখনো অনিশ্চিত।
Advertisement
পার্শ্ববর্তী তুরস্ক, মিশর ও সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপ না করার পরামর্শ দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কায়রোভিত্তিক এক কূটনীতিক বলেন, এমন পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএনএ’র তথ্য অনুযায়ী, ইরানে কঠোর দমনপীড়নে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে দুই হাজার জন নিহত এবং ১৮ হাজার জনের বেশি গ্রেফতার হয়েছে। দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ১৯৭৯ সালের বিপ্লব-পরবর্তী যে কোনো ঘটনার তুলনায় বেশি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
কেএম
Advertisement