জাতীয়

ভবন নির্মাণ তদারকিতে হচ্ছে ‘বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ’

ভবনের নকশা অনুমোদন, নির্মাণমান নিশ্চিতকরণ ও নিরাপদ ভবন বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ‘বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ’ গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য ‘বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে।

Advertisement

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়‌ এ আইনের খসড়াটি প্রণয়ন করেছে। এরপর এটি উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়।

২০২০ সালে করা সংশোধিত বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোডে (বিএনবিসি) এটি বাস্তবায়নের জন্য তদারকি কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা ছিল। এতদিন বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি (বিবিআরএ) গঠন করা হয়নি।

আধ্যাদেশ অনুযায়ী বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ ভবন নির্মাণ খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কোড প্রতিপালন নিশ্চিত করবে। সরকারের মতে, এ নতুন কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমে ভবন নির্মাণ খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও সমন্বয়হীনতা কমবে এবং নিরাপদ ও মানসম্মত ভবন নিশ্চিত করার পথে একটি শক্ত কাঠামো তৈরি হবে।

Advertisement

বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হবে ভবন নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণে কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলা। নির্মাণ পরিকল্পনা, নকশা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবীদের পরীক্ষার মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদান, তালিকাভুক্তকরণ এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতাও থাকবে এ সংস্থার হাতে। পাশাপাশি আধুনিক নির্মাণসামগ্রী ও প্রযুক্তির আলোকে বিল্ডিং কোড হালনাগাদ এবং কোড প্রয়োগে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ভবন নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে একটি প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালুর কথা বলা হয়েছে অধ্যাদেশে। একই সঙ্গে কোড ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও অন্যান্য সংস্থাকে সুপারিশ করতে পারবে কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন, বিভিন্ন সরকারি বিধি ও নীতির মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বও থাকবে এই সংস্থার ওপর। উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিসি (বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন) কমিটি, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার বিল্ডিং অফিসিয়ালদের কার্যক্রমের অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করতেও কর্তৃপক্ষ ভূমিকা রাখবে বলেও অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি পরিচালনা বোর্ড গঠন করা হবে। সরকার একজন চেয়ারম্যানসহ বোর্ডের সদস্যদের নিয়োগ দেবে। বোর্ডে একজন পুরকৌশলী, একজন স্থপতি, একজন নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনাবিদ, একজন বিচারক বা আইনজ্ঞ এবং একজন অভিজ্ঞ সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। চেয়ারম্যানই হবেন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী। চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মেয়াদ হবে তিন বছর এবং কোনো ব্যক্তি টানা দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

Advertisement

অধ্যাদেশে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যোগ্যতা, অযোগ্যতা ও অপসারণের বিধানও উল্লেখ করা হয়েছে। বয়সসীমা নির্ধারণের পাশাপাশি ঋণখেলাপি, দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট পেশায় যুক্ত ব্যক্তিরা এ পদে থাকতে পারবেন না। সরকার কারণ দর্শানোর সুযোগ দিয়ে যেকোনো সময় চেয়ারম্যান বা সদস্যকে অপসারণ করতে পারবে।

এ অধ্যাদেশের আওতায় দেশের উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিসি কমিটি, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ভবন নকশা অনুমোদন ও কোড প্রতিপালন কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রক ও তদারকি সংস্থা হিসেবে কাজ করবে বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনে নোটিশ দিয়ে নকশা সংক্রান্ত তথ্য ও নথিপত্র যাচাই করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।

কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি তহবিল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারি অনুদান, দেশি-বিদেশি দাতা সংস্থার অনুদান, ফি ও চার্জসহ বিভিন্ন উৎস থেকে এ তহবিলে অর্থ জমা হবে। তহবিলের অর্থ সরকারের নিয়মনীতি অনুসরণ করে ব্যয় করা হবে এবং উদ্বৃত্ত অর্থ ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য সংরক্ষণ করা যাবে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরএমএম/এমকেআর/এমএস