কোনো ধরনের শর্ত আরোপ ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ নির্বাচন (শাকসু) আয়োজনের লক্ষ্য বুধবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা। সেই স্মারকলিপি থেকে সন্ধ্যায় স্বাক্ষর প্রত্যাহার করেছেন ছাত্রদল-সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ।
Advertisement
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ ভবনের সামনে নির্বাচন কমিশনের হাতে ৭৬ প্রার্থীর স্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপি তুলে দেন প্রার্থীরা। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী ও স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী সেই স্বাক্ষর প্রত্যাহার করে শাকসু নির্বাচন কমিশন বরাবর আবেদন করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ জাগো নিউজকে বলেন, নির্বাচন কমিশন যে তিন শর্ত দিয়েছে সেগুলোর দায়ভার আমাদেরকে কেন নিতে হবে, এগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিবে। স্বাক্ষর করার আগে বিষয়টি আমি বুঝতে পারিনি। পরে নিজের আশঙ্কার জায়গা থেকেই স্মারকলিপি থেকে স্বাক্ষর প্রত্যাহার করেছি।
এ সময় তার সঙ্গে ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ স্বাক্ষর প্রত্যাহার করেন বলে জানান তিনি।
Advertisement
এরআগে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নির্ধারিত তারিখে শাকসু আয়োজনে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সঙ্গে দেখা করেন শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দীন চৌধুরী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন।
নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন আয়োজনে অনুমতি দিলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার থেকে শর্ত আরোপ করা হয় শাকসু নির্বাচনের প্রত্যেক প্যানেলের দুই থেকে তিনজন করে প্রার্থীদের সম্মিলিতভাবে অঙ্গিকারনামা পেশ করতে হবে।
অঙ্গীকারনামার তিনটি শর্তের মধ্যে ছিল-
এক. শাকসু নির্বাচনের সাথে জাতীয় নির্বাচনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দুই. শাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলবেনা। তিন. শাকসু নির্বাচনকালীন ও পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবেনা।
Advertisement
নির্বাচন কমিশনের এমন শর্তকে প্রহসন আখ্যা দিয়ে নির্ধারিত সময়ে শাকসুর দাবিতে স্মারকলিপি দেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে আসন্ন শাকসু নির্বাচনের পথে বাধা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে মনে করা হচ্ছে, শাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। আমরা শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা মনে করি, জাতীয় নির্বাচনের সাথে শাকসু নির্বাচনের কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতা ও সাংঘর্ষিকতা নেই। আসন্ন শাকসু নির্বাচন কোনভাবেই জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করে না। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা বা মুচলেকা চাওয়া কোনভাবেই সম্মানজনক না। আমরা এই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করি। এজন্য আমরা বিশ্বাস করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণ সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে কোন বাধা নেই। সুতরাং, আমরা পূর্বনির্ধারিত সময়ে যে কোন কর্তৃপক্ষ থেকে নতুন কোন শর্ত আরোপ ছাড়াই শাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানাই।
এ বিষয়ে জানতে ছাত্রদল প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এসএইচ জাহিদ/এনএইচআর/এমএস