অর্থনীতি

১০ বেসরকারি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে এলপিজির বাজার

দেশজুড়ে গ্যাস সংকট চরমে। এলপিজি সিলিন্ডার এখন প্রায় দ্বিগুণ দামেও মিলছে না। সরকার বলছে সংকট সাময়িক, মজুত পর্যাপ্ত। বেসরকারি কোম্পানিগুলো বলছে এলসি সংকটের কথা। আমদানিও হয়েছে কম। দাম বাড়ার জন্য আবার ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের দুষছেন সংশ্লিষ্টরা। বাসাবাড়ির লাইনের গ্যাসের অবস্থাও নাজুক। গ্যাসের বাজার ও সংকট নিয়ে ইকবাল হোসেনের তিন পর্বের ধারাবাহিকের আজ থাকছে তৃতীয় ও শেষটি।

Advertisement

দেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রাপ্তি কমে যাওয়ায় বাড়ছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ব্যবহার। বিগত ১৫ বছরে দেশে এলপিজির বাজার বেড়েছে ২৫ গুণ। এলএনজি প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর ও বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল। বাসাবাড়ি বা শিল্পে ব্যবহার করা এলএনজিও এখন আমদানি করতে হয়।

বড় বড় শিল্প গ্রুপের বিনিয়োগ রয়েছে এখন এলপিজি সেক্টরে। অতি সম্প্রতি সিটি গ্রুপ যুক্ত হয়েছে এ সেক্টরে। এলএনজি আমদানি পুরোপুরি সরকারিভাবে হয়ে থাকলেও এলপিজির ৮৫ শতাংশ রয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে। বলা যায়, শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের হাতে পুরো ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ। সবমিলিয়ে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বছরে ৩৩ লাখ টন এলপিজি বটলিং করার সক্ষমতা রয়েছে। এতে বছরে ১২ কেজির ২৭ কোটি ৫০ লাখ সিলিন্ডার ফিলিং করা যায়।

দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণ নিয়ন্ত্রণ করে সরকারি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা। আর পেট্রোলিয়াম গ্যাসের আমদানি, বাজারজাতকরণ নিয়ন্ত্রণ করে রাষ্ট্রীয় আরেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

Advertisement

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩০ প্রতিষ্ঠানের কাছে এলপিজি আমদানি ও বটলিং করার অনুমোদন রয়েছে। এর মধ্যে আমদানি করার টার্মিনাল রয়েছে ২৩ প্রতিষ্ঠানের কাছে। অন্য সাত প্রতিষ্ঠান আমদানিকারকদের কাছ থেকে এলএনজি কিনে স্যাটেলাইট ফিলিং পয়েন্টের মাধ্যমে এলপিজি বটলিং করে বাজারজাত করে।

আরও পড়ুনএলসি জটিলতায় এলপিজি সংকট, ‘ঘি ঢালছেন’ ডিলার-খুচরা বিক্রেতাবঙ্গোপসাগর থেকে রহস্যজনকভাবে উধাও এলপিজিবাহী ‘ক্যাপ্টেন নিকোলাস’দ্বিগুণ দামেও মিলছে না এলপিজি

এর মধ্যে সক্ষমতার দিক থেকে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে জেএমআই ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্যাস লিমিটেড। তাদের দুটি প্ল্যান্ট রয়েছে। প্ল্যান্ট দুটি বার্ষিক সাড়ে ৩ লাখ টন এলপিজি অপারেশন ও বটলিং সক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি ৫০ হাজার টন সক্ষমতার পদ্মা এলপিজি লিমিটেডের প্ল্যান্টটিও কিনে নিয়েছে জেএমআই। সক্ষমতার তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিএম এনার্জি। তাদের চারটি প্ল্যান্টের বছরে ৩ লাখ ১০ হাজার টন হ্যান্ডলিং সক্ষমতা রয়েছে। পরের অবস্থানে রয়েছে বসুন্ধরা ও ওমেরা পেট্রোলিয়াম। তাদের চারটি করে প্ল্যান্টে বার্ষিক মোট তিন লাখ টনের বটলিং সক্ষমতা রয়েছে। আরেক জায়ান্ট শিল্প গ্রুপ এস আলমের অংশীদারি প্রতিষ্ঠান ইউনিটেক্স এলপি গ্যাস লিমিটেডের রয়েছে বছরে দুই লাখ ৮০ হাজার টন সক্ষমতার প্ল্যান্ট।

দেশের আরেক বড় শিল্প গ্রুপ মেঘনার মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের আড়াই লাখ টন সক্ষমতার একটি প্ল্যান্ট আছে। পেট্রোম্যাক্স লিমিটেডের মোট ১ লাখ ৬০ হাজার টন সক্ষমতা রয়েছে তাদের দুটি প্ল্যান্টে। পাশাপাশি সান গ্যাস লিমিটেডের অনুমোদিত সক্ষমতা রয়েছে দেড় লাখ টন সক্ষমতার একটি প্ল্যান্ট। এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনের দুটি প্ল্যান্টে বছরে ১ লাখ টনের সক্ষমতা রয়েছে।

Advertisement

এলপিজির প্রায় পুরোটাই প্রাইভেট সেক্টরের হাতে। নানান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এ খাত এগিয়ে যাচ্ছে। এ খাতে সরকারি সঠিক নীতি সহায়তার অভাব রয়েছে। বিশেষ করে এলসি জটিলতা, আমদানি ও বাজারজাতকরণে দুই ধাপে ভ্যাট, নতুন প্ল্যান্ট ও বিনিয়োগে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে।- স্মার্ট গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন মাইনুল আহসান খান

এছাড়া ওরিয়ন এলপি গ্যাসের ৮০ হাজার টনের একটি, বেক্সিমকো এলপিজির ৩৬ হাজার টন সক্ষমতার একটি, দুবাই বাংলা এলপি গ্যাস লিমিটেডের ৫০ হাজার টনের একটি, ডেল্টা এলপিজি লিমিটেডের দুটি প্ল্যান্ট রয়েছে। তাতে বছরে সক্ষমতা ৬০ হাজার টন। বেঙ্গল এলপিজি লিমিটেডের ৩৬ হাজার টনের প্ল্যান্ট রয়েছে। দুই বছর আগে বেঙ্গল এলপিজি কিনে নিয়েছে দেশে ভোগ্যপণ্যের আরেক জায়ান্ট সিটি গ্রুপ। তারা তীর ব্র্যান্ডে এলপিজি বাজারে আনার অপেক্ষায়।

আইগ্যাস ব্র্যান্ডে ইউনাইটেড এলপিজি লিমিটেডের এক লাখ টনের একটি, টিএমএসএস এলপিজি লিমিটেডের ৬০ হাজার টনের একটি, প্রিমিয়ার এলপি গ্যাস লিমিটেডের দুটি প্ল্যান্টে (টোটাল) মোট একলাখ টন সক্ষমতা রয়েছে।

তাছাড়া সেনা কল্যাণ সংস্থা এলপিজির ৩০ হাজার টন, নাভানা এলপিজি লিমিটেডের ১ লাখ টন, ইউরো পেট্রো প্রোডাক্টের ৩০ হাজার টন, প্রমিতা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস লিমিটেডের ৩৫ হাজার টন এবং ইউনিভার্সাল গ্যাসের ৫৬ হাজার টনের একটি করে আমদানি এলপিজি খালাসের টার্মিনালসহ বটলিং প্ল্যান্ট রয়েছে।

একইভাবে স্যাটেলাইট ফিলিং পয়েন্ট ব্যবহার করে যারা বটলিং করেন তাদের মধ্যে বিন হাবিব (বিডি) লিমিটেডের বার্ষিক ৮ হাজার টন, অর্কিড এনার্জি লিমিটেডের ১৫ হাজার টন, পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্ট লিমিটেডের ১২ হাজার টন, হাজি নাজির আহমেদ এলপি গ্যাসের ৬ হাজার টন, এসএল কর্ণফুলী এলপি গ্যাস লিমিটেডের ৫০ হাজার টন সক্ষমতার বটলিং প্ল্যান্ট রয়েছে। এর মধ্যে এসএল কর্ণফুলী এলপি গ্যাসের একটি অংশও ইতোমধ্যে কিনে নিয়েছে জেএমআই।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে এলপিজির বাজার বেড়ে ২৫ গুণ বড় হয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে যেখানে সরকারি-বেসরকারিভাবে ৬৯ হাজার ৫৭২ টন এলপিজি বাজারজাত হয়েছিল। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেড (এলপিজিএল) সরবরাহ করে ২১ হাজার ১৬২ টন।

আরও পড়ুনএলপি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ ও কৃত্রিম সংকট নিরসনের দাবিসুনামগঞ্জে এলপিজি গ্যাস সংকটের অজুহাতে বাড়তি দামে বিক্রি১২৫৩ টাকার এলপিজি ২০০০ টাকা, দায় কার?

বেসরকারিভাবে তিন প্রতিষ্ঠান বাকি এলপিজি আমদানি করেছিল। সবশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৭টি প্রতিষ্ঠান ১৭ লাখ ৬ হাজার ২শ টন এলপিজি আমদানি করে। পাশাপাশি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশি উৎস থেকে সরকারি এলপিজিএলসহ বেসরকারি তিন রিফাইনারি মিলে সরবরাহ করেছে ৪৫ হাজার ৬৩০ টন। এর মধ্যে বটলিং করে না এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও এলপিজি আমদানি করে বটলার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরবরাহ দিয়েছে। সবমিলিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৮৩০ টন এলপি গ্যাস উৎপাদন ও আমদানি হয়েছে।

এর মধ্যে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠান আমদানি করেছে ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫০ টন। আমদানিতে এবার শীর্ষে রয়েছে ওমেরা। তারা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৩০৩ টন এলপিজি আমদানি করেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মেঘনা ফ্রেশ আমদানি করেছে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪১ টন। তৃতীয় সর্বোচ্চ যমুনা স্পেসটেক আমদানি করেছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৩০৯ টন। ১ লাখ ৯৬ হাজার ৫২০ টন আমদানি করে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বিএম এনার্জি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানিতে তালিকায় ৫ নম্বরে রয়েছে গ্রিন টাউন এলপি গ্যাস (শুরুর নাম বেঙ্গল এলপিজি)। তারা আমদানি করে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৬৭৮ টন।

আমদানিতে ষষ্ঠ স্থানে থাকা পেট্রোম্যাক্স আমদানি করেছে ১ লাখ ১৯ হাজার ১৩৯ টন। ৭ম ডেল্টা এলপি গ্যাস আমদানি করেছে ৮৯ হাজার ১৬ টন, ৮ম হিসেবে জেএমআই আমদানি করেছে ৮২ হাজার ৬৪৬ টন। নবম স্থানে টোটাল ব্র্যান্ডের প্রিমিয়ার এলপি গ্যাস আমদানি করেছে ৬৭ হাজার ৪৩৪ টন। ১০ নম্বরে রয়েছে আরেক জায়ান্ট বসুন্ধরা এলপি গ্যাস।

বিপিসি থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১-২২, ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানিতে শীর্ষে ছিল বসুন্ধরা গ্রুপ। ২০২১-২২ অর্থবছরে তারা ২ লাখ ৭৫ হাজার ৯৫২ টন এলপিজি আমদানি করে। পরের বছর থেকে ধারাবাহিকভাবে তাদের আমদানি কমে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২ লাখ ২৬ হাজার ৭১২ টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫৫ টন এবং সবশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তারা আমদানি করেছে মাত্র ৬৬ হাজার ৮৬৪ টন।

এছাড়া বেক্সিমকো এলপিজি লিমিটেড ২০০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭৩ হাজার ৫১৭ টন এলপিজি আমদানি করলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে করেছে ২৩ হাজার ২১৭ টন। একইভাবে এসআলম গ্রুপের অংশীদারত্বের প্রতিষ্ঠান ইউনিটেক্স এলপি গ্যাস ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৬৮ টন আমদানি করলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি করেছে মাত্র ২০ হাজার ৭শ টন। আরেক শিল্পগ্রুপ ওরিয়ন ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬ হাজার ১৯৬ টন আমদানি করলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোনো এলপিজি আমদানি করেনি।

সরকার বিদ্যুৎ ও পাইপলাইনের গ্যাসে ভর্তুকি দিয়ে আসছে। কিন্তু এলপিজি সেক্টর কোনো ভর্তুকি ছাড়াই গড়ে উঠেছে। এ খাতের প্রসার ও জনসাধারণের কাছে সহজলভ্য করতে শক্ত নীতিমালা প্রয়োজন।–জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম. তামিম

পাশাপাশি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেড (এলপিজিএল) ২০ হাজার ৪৫০ টন, বিপিসির অনুমোদিত তিন বেসরকারি রিফাইনারির মধ্যে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল ১৯ হাজার ৬১১ টন, অ্যাকুয়া রিফাইনারি ২ হাজার ৮০ টন এবং পারটেক্স পেট্রো ৩ হাজার ৪৯০ টন এলপিজি বাজারে সরবরাহ করেছে।

স্মার্ট গ্রুপের মালিকানাধীন বিএম এনার্জি। গ্রুপটির নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন মাইনুল আহসান খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রাইভেট সেক্টরের মধ্যে এলপিজি একটি অগ্রসরমান খাত। এলপিজির প্রায় পুরোটাই প্রাইভেট সেক্টরের হাতে। নানান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এ খাত এগিয়ে যাচ্ছে। এ খাতে সরকারি সঠিক নীতি সহায়তার অভাব রয়েছে। বিশেষ করে এলসি জটিলতা, আমদানি ও বাজারজাতকরণে দুই ধাপে ভ্যাট, নতুন প্ল্যান্ট ও বিনিয়োগে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এবার অনেক প্রতিষ্ঠান বেশি এলপিজি আমদানির জন্য অনুমোদন চেয়ে ব্যর্থ হয়েছে। নীতিগত জটিলতা দেখিয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এখন দেশে এলপিজির সংকট তৈরি হয়েছে। নীতি সহজীকরণ করা হলে এখনকার যে সংকট, তা তৈরি হতো না।’

যানবাহনের জন্য ভর্তুকিমূল্যের এলপিজিকে ক্রসফিলিং হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক জায়গায় এলপিজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে অবৈধভাবে সিলিন্ডারে ক্রসফিলিং করা হচ্ছে। এটি নতুন সংকট। ক্রসফিলিং বন্ধে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

এখন এলপিজি আমদানিতে এলসি সংক্রান্ত জটিলতা দূর করার পাশাপাশি দ্রুত দ্বৈত ভ্যাট প্রত্যাহার করা গেলে চলমান সংকট কাটানো সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা করে এলপিজি সেক্টরের বিনিয়োগকে নিরাপদ করতে হবে।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, ‘দেশে প্রাকৃতিক উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস ও গৃহস্থালিতে পাইপলাইনে নতুন করে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় দিন দিন এলপিজির ব্যবহার বাড়ছে। পাশাপাাশি শিল্প-কারখানায়ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ না থাকায় তাতেও এলপিজির ব্যবহার শুরু হয়েছে। দেশে বর্তমানে এলপিজির ব্যবহার বার্ষিক ১৫ লাখ টনের ওপরে। এলপিজির ব্যবহার যে হারে বাড়ছে তাতে ২০৩০ সালে চাহিদা ২৫ লাখ টনে পৌঁছাবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে এলপিজির চাহিদা আরও ১০ লাখ টন বাড়বে।’

ড. ম. তামিম বলেন, ‘সরকার বিদ্যুৎ ও পাইপলাইনের গ্যাসে ভর্তুকি দিয়ে আসছে। কিন্তু এলপিজি সেক্টর কোনো ভর্তুকি ছাড়াই গড়ে উঠেছে। এ খাতের প্রসার ও জনসাধারণের কাছে সহজলভ্য করতে শক্ত নীতিমালা প্রয়োজন।’

এ জ্বালানি বিশেষজ্ঞের তথ্যমতে, দেশের মোট এলপিজির ৮০ শতাংশ বাসাবাড়িতে, শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানে ১২ শতাংশ এবং অটোগ্যাস খাতে ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ৮ শতাংশ।

এমডিআইএইচ/এএসএ/ এমএফএ/এমএস