ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের মীরেরগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা শিরিয়া বেগম (৬৬)। মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষাবৃত্তি করে এই বৃদ্ধা জমিয়েছিলেন অন্তত ৮০ হাজার টাকা। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে জমানো টাকাগুলোই ছিল তার বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল। কিন্তু অসহায় শিরিয়া বেগমের জমানো সব টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে। এমনকি প্রতিবাদ জানিয়ে টাকা চাইতে গেলে মারধরের শিকারও হয়েছেন তিনি।
Advertisement
বুধবার(১৪ জানুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমন অভিযোগ করেন শিরিয়া বেগম। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের মীরেরগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে গত ৫ বছর যাবৎ বসবাস করে আসছেন। তিনদিন আগে তার ঘর থেকে জমানো সব টাকা চুরি হয়ে যায়।
শিরিয়া বেগম বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে স্বামী রাশেদ খান মারা গেছেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে জীবনযুদ্ধে নামতে হয় তাকে। জীবিকা হিসেবে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ফেরি করে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। সেই ব্যবসার টাকা দিয়ে বিয়ে দিয়েছেন একমাত্র মেয়েকে। কিন্তু গত ৬ বছর আগে বয়সের ভারে অসুস্থ হয়ে পড়লে বন্ধ হয়ে যায় তার কাপড়ের ব্যবসা। পরে ভূমিহীন এই নারী আশ্রয় নেন একটি গুচ্ছগ্রামে। এরপর জীবিকার তাগিদে বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তি। দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবৎ ভিক্ষা করে জমিয়েছিলেন ৮০ হাজার টাকার মতো। টাকাগুলো নিজের চৌকির তোশকের নিচে ও ঘরের এক কোণে রেখেছিলেন।
তার অভিযোগ, প্রতিবেশী মন্ডল নামে এক ব্যক্তি টাকাগুলো চুরি করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা এবং গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা কোমেলা বেগম নামে এক নারীর ঘর ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। প্রতিদিন রাত হলেই মন্ডলের থাকার ঘরটিতে মাদক ও জুয়ার আসর বসে। সেখানে রাতভর জুয়া ও মাদক সেবনে আড্ডা দেয় বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অজ্ঞাত ব্যক্তিরা।
Advertisement
কাঁদতে কাঁদতে শিরিয়া বেগম বলেন, ‘ওরা (মাদকসেবীরা) আমার ঘরে ঢুইক্যা অনেক ফাজলামিও করতো। কোনোদিনও ভাবি নাই- ওরাই আমার টাকা চুরি করবে। আমি টাকা চাবার (চাইতে) গেলে আমারে অনেক মারছে। টাকা চাইতে গেলে আমার সঙ্গে সবাই খালি ব্যঙ্গ করে। আমারে ওরা মারছে, মাইর্যা ফেলানোর ভয় দেখাচ্ছে। আমার টাকাগুলো ফেরত আইন্যা দেন।’
এই বৃদ্ধার ভাষ্যমতে, টাকা চাইতে গেলে মন্ডলের সহযোগী উজ্জ্বল নামে আরেক ব্যক্তি তাকে মারধর করেছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে মন্ডল ও উজ্জলের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ভুক্তভোগী থানায় এসে অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এন কে বি নয়ন/এফএ/এমএস
Advertisement