নানা নাটকীয়তার পরও আসন সমঝোতা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি ১১ দলীয় জোট। গতকাল বুধবার দিনভর বৈঠক করেও দলের অবস্থান পরিষ্কার করেনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ জোরেশোরেই জোট থেকে দলটির বের হয়ে যাওয়ার গুঞ্জন শুরু হয়। তবে জোট ছাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট না করলেও এমন আভাসই দিচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতারা।
Advertisement
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দলটির মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘১১ দলীয় জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কাছাকাছি আছি, এটা ধরে নেওয়া যায়। আমরা কোন পথে হাঁটবো, এ নিয়ে দুপুরের দিকে স্পষ্ট করা হবে। আজকে একটি সংবাদ সম্মেলনের টাইম ফিক্সড করবো, সেখানে দলের অবস্থান পরিষ্কার করবো। আমাদের আমির ও নায়েবে আমির দুজনই এখন ঢাকায় আছেন।’
এবি পার্টি, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-সহ আরও কয়েকটি দল নিয়ে নতুন জোট গঠন করতে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন—এমন আভাস সম্পর্কে জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, ‘এরকম কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত হয় নাই। গুঞ্জন আছে, আলোচনা আছে। এরকম জোট হলে কেমন হয়, এমন কিছু প্রস্তাবনা আমাদের কাছে আসছে। আমরা আলোচনা করছি, তবে চূড়ান্ত নয়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামী আন্দোলনের ঢাকা মহানগর উত্তরের একজন নেতা জাগো নিউজকে বলেছেন, ‘শেষ পর্যন্ত এই জোটে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। আমাদের কিছু সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ঐক্য আর দেশে স্বার্থে এই জোটে থাকতে চেয়েছিলেন। তবে এখন মনে হচ্ছে না সেই সুযোগ আর রয়েছে। আজকেও দলের বৈঠক আছে, সেখানে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত আসবে। যেখানে সমঝোতা নেই সেখানে কোনো জোট হয় না। দেখা যাক কী হয়।’
Advertisement
এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে বসেছেন জোটের শীর্ষ নেতারা। সেই বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন অংশ নেয়নি। ওই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিডিপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমাদ আব্দুর কাদের প্রমুখ।
ওই বৈঠকে না থাকার বিষয়ে দুপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বৈঠকে আমাদের কোনো প্রতিনিধি নেই। তবে সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। জোটে থাকা না থাকার বিষয়টি পরবর্তীতে জানানো হবে।’
এর আগে গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে কিছু সংকট আছে, যা অস্বীকারের সুযোগ নেই। কারও চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলনের মেনে নিতে হবে, এই রাজনীতি আমাদের দল অতীতেও করেনি। কারও অবহেলা স্বাভাবিকভাবে নেওয়া যায় না।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ইসলামি পাঁচ দলের বাইরেও অনেকেরই আলোচনা চলছে। আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর জানাবো।’
Advertisement
আরএএস/এমকেআর