আন্তর্জাতিক

গ্রিনল্যান্ডে শিগগির আরও সেনা পাঠাবে ফ্রান্স

ফ্রান্স খুব শিগগিরই গ্রিনল্যান্ডে আরও সেনা পাঠাবে বলে জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চল দখলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পে হুমকি ও বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

নতুন বছর শুরুর উপলক্ষে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, গ্রিনল্যান্ডে ফরাসি সেনাদের একটি প্রথম দল এরই মধ্যে অবস্থান করছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওই বাহিনীকে স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে অতিরিক্ত সামরিক সক্ষমতা দিয়ে আরও শক্তিশালী করা হবে।

তিনি আরও জানান, ইউরোপীয় সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবেই এসব ফরাসি বাহিনী গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন করা হচ্ছে।

এদিকে, গ্রিনল্যান্ডে সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা মোতায়েন শুরু করেছে ডেনমার্কও। আর্কটিক দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধি এবং ট্রাম্পের নতুন বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে এ পদক্ষেপ নিচ্ছে দেশটি।

Advertisement

ড্যানিশ গণমাধ্যম ডিআর’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি অগ্রবর্তী সামরিক কমান্ড ইউনিট এরই মধ্যে গ্রিনল্যান্ডে পাঠানো হয়েছে যারা সম্ভাব্য বৃহত্তর ডেনিশ ও মিত্র বাহিনীর আগমন সামনে রেখে লজিস্টিক সহায়তা ও অবকাঠামো প্রস্তুত করছে। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে সরবরাহ লাইন এবং স্থাপনাগুলো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ও উপযোগী করা।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। এটি পাওয়ার ক্ষেত্রে ন্যাটোর নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। তার দাবি, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে গেলে জোটটি ‘আরও শক্তিশালী ও কার্যকর’হয়ে উঠবে। তিনি আরও বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে প্রস্তাবিত একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্যও ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ, এই অঞ্চলে রুশ ও চীনা বাহিনীর সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে এবং এ দ্বীপ রক্ষা করার সক্ষমতা ডেনমার্কের নেই। এমন পরিস্থিতিতে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন।

অন্যদিকে, ২১ লাখ ৬৬ হাজার বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও ভূভাগের অখণ্ডতা রক্ষায় একজোট হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের ক্ষমতাধর ছয়টি দেশ। দেশগুলো হচ্ছে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন এবং যুক্তরাজ্যে।

Advertisement

সূত্র: এএফপি

এসএএইচ