দেশজুড়ে

সেতু থেকে ১৬ মাসের সন্তানকে ফেলে দিয়ে থানায় মায়ের আত্মসমর্পণ

নওগাঁর পত্নীতলায় এক মা তার ১৬ মাস বয়সী কন্যা সন্তানকে সেতু থেকে আত্রাই নদীতে ফেলে দিয়েছেন। পরে নিজেই থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ ও গ্রেফতারের দাবি জানান।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মাহমুদপুর ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই পত্নীতলা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

স্থানীয়দের সহায়তায় খমির শেখ নামের এক ব্যক্তি নদী থেকে শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে পুলিশ শিশুটিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসাধীন থাকলেও শঙ্কামুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

পত্নীতলা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এক নারী থানায় এসে জানান, তিনি নিজ হাতে তার ১৬ মাস বয়সী কন্যা সন্তানকে আত্রাই নদীর পানিতে ফেলে দিয়েছেন এবং এজন্য তাকে গ্রেফতার করার দাবি জানান। বিষয়টি নিশ্চিত হতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী মানসিকভাবে অসুস্থ।

Advertisement

এদিকে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিকেলে পেশাগত সফরে পত্নীতলা থানা পরিদর্শনে যান। বিষয়টি অবগত হয়ে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে শিশুটির খোঁজখবর নেন। সাহসিকতার সঙ্গে শিশুটিকে উদ্ধার করায় স্থানীয় বাসিন্দা খমির শেখকে পুলিশের পক্ষ থেকে আর্থিক পুরস্কার দেন পুলিশ সুপার।

শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান জানান, তার স্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ কারণেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি তার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।

এ বিষয়ে পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, ‌‘একজন মা থানায় এসে তার সন্তানকে নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। বর্তমানে শিশুটি শঙ্কামুক্ত রয়েছে।’

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। পুলিশ শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার মায়ের মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।’

Advertisement

আরমান হোসেন রুমন/এসআর/জেআইএম