মহানবীর (সা.) প্রথম জীবনীকার ইবনে ইসহাক আবু সালামা ইবনে আব্দুর রাহমানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, মহানবী (সা.) এক জুমার প্রথম খুতবা দিতে দাঁড়িয়ে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও গুণাবলি বর্ণনা করার পর বলেন:
Advertisement
লোক সকল! আপনারা নিজেদের নিজেদের মুক্তির জন্য আমল করুন। আল্লাহর শপথ! আপনারা অবশ্যই জানবেন, আপনাদের কাউকে যখন হঠাৎ মৃত্যু গ্রাস করবে, সে তার ছাগলের পাল রাখালহীন অবস্থায় ছেড়ে চলে যাবে, তাররপর তার রব তার সঙ্গে কথা বলবেন, তার মাঝে ও তার প্রভুর মাঝে কোনো দোভাষী থাকবে না, কোনো পর্দা থাকবে না। তিনি বলবেন, তোমার কাছে কি আমার রসুল এসে আমার হুকুম-আহকাম পৌঁছে দেয়নি? আমি তোমাকে দুনিয়ার সম্পদ দিয়েছিলাম এবং তোমার ওপর অনুগ্রহ করেছিলাম। তুমি নিজের আখেরাতের জীবনের জন্য কী পাঠিয়েছ? তখন সে ডান দিকে তাকাবে, বাম দিকে তাকাবে, কিন্তু কিছুই দেখতে পাবে না। তারপর সামনে তাকাবে। কিন্তু সে জাহান্নাম ছাড়া কিছুই দেখতে পাবে না।
সুতরাং যে ব্যক্তি এক টুকরো খেজুর দান করার বিনিময়ে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার সামর্থ রাখে সে যেন তা দান করে জাহান্নাম থেকে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। আর যে ব্যক্তি সেই সামর্থ্যও রাখে না, সে যেন উত্তম কথা বলার (উত্তম আচরণ) মাধ্যমে হলেও জাহান্নাম থেকে বাঁচার চেষ্টা করে। কারণ এর বিনিময়েও নেকির সওয়াব এক থেকে দশ গুণ আর দশ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।
আপনাদের ওপর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
Advertisement
দ্বিতীয় খুতবায় মহানবী (সা.) বলেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি তার প্রশংসা করছি, তার কাছেই সাহায্য চাচ্ছি, আমরা আমাদের নফসের অকল্যাণ থেকে এবং খারাপ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তিনি যাকে হেদায়াত করেন কেউ তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারেনা। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন কেউ তাকে সঠিক পথ দেখাতে পারেনা। আমি এই সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সঠিক কোনো উপাস্য নেই। তিনি এক, তার কোন শরিক নেই। নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব।
ওই ব্যক্তি সফল হবে, যার অন্তুর আল্লাহ তাআলা কোরআনের মাধ্যমে সৌন্দর্যমন্ডিত করেছেন এবং কুফরিতে লিপ্ত হওয়ার পর তাকে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় দিয়েছেন। ফলে মানুষের কথা বাদ দিয়ে সে আল্লাহর কালামকে বেছে নিয়েছে। কারণ আল্লাহর বাণীই হচ্ছে সর্বোত্তম ও সর্বোচ্চ বাণী। আল্লাহ যা ভালাবাসেন আপনারা তাই ভালবাসুন এবং আপনাদের অন্তরসমূহকে আল্লাহর ভালবাসা দিয়ে ভরে দিন। আল্লাহর কালাম পাঠ করতে এবং আল্লাহকে স্মরণ করতে আপনারা ক্লান্তিবোধ করবেন না। আপনাদের অন্তর যেন কোরআন বিমুখ না হয়ে যায়।
নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাআলা সকল সৃষ্টি থেকে উত্তমটিই বাছাই করেন এবং তা নিজের জন্য নির্বাচন করেন। আল্লাহ তার বান্দাদের আমলসমূহ থেকে কোরআন তিলাওয়াতকে সর্বোত্তম আমল হিসেবে উল্লেখ করেছেন, বান্দাদের আমল থেকে তা পছন্দ করেছেন, তাকে সর্বোত্তম বাণী বলে ঘোষণা করেছেন এবং তার মাঝে মানুষের জন্য সকল হালাল ও হারাম বিষয় বর্ণনা করেছেন।
Advertisement
আপনারা আল্লাহর ইবাদত করুন। তার সাথে কোন কিছুকে শরিক করবেন না এবং তাকে যথাযথভাবে ভয় করুন। আপনারা মুখ দিয়ে যে সমস্ত কথা উচ্চারণ করে থাকেন তা থেকে সর্বোত্তম কথার মাধ্যমে আল্লাহর সত্যতার ঘোষণা দিন। আল্লাহর রহমতের মাধ্যমে পরস্পর ভালবাসার বন্ধন রচনা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সঙ্গে কৃত ওয়াদা ভঙ্গকারীকে মোটেই পছন্দ করেননা।
আপনাদের ওপর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
সূত্র: যাদুল মাআদ
ওএফএফ