দেশজুড়ে

পুকুর দখল নিয়ে দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব, মসজিদের মাইকে হামলার ঘোষণা

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) পুকুর দখল নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার ঘটেছে। এসময় একপক্ষের একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

Advertisement

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ভাড়রা বাজার সংলগ্ন এলাকায় ভাড়রা ও যদুবয়রা ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপুর গ্রামের একাংশের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলার এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা নেতৃত্ব দেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সান্দিয়ারা-লাহিনীপাড়া সড়কের ভাড়রা বাজার সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১২ বিঘা জমির পুকুর রয়েছে পাউবোর। যা স্থানীয় নামমাত্র খাজনা দিয়ে ‘সুফলভোগী ’ সংগঠনের নামে ভোগ করার কথা। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় এমপি ডিও লেটারের মাধ্যমে চাপড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম রাশেদ টোটো তার সমর্থিতদের মাধ্যমে ভোগ করতেন। তিনি প্রতিবছরে সরকারে ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করতেন। আগামী ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে।

Advertisement

আওয়ামী লীগ সরকার পালানোর পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তা দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে গেল বছর আওয়ামী লীগ নেতা টোটো ৭ লাখ টাকায় যদুবয়রা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও বিএনপি নেত্রী সাজেদা খাতুনের কাছে পুকুরটি হস্তান্তর করেন।

এ নিয়ে ভাড়রা ও উত্তর চাঁদপুর এই দুই গ্রামবাসী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল। এরই মধ্যে শুক্রবার দুপুরে যদুবয়রা ইউএনপির সার্চ কমিটির সাবেক সদস্য ফারুক হোসেন, বিএনপির কর্মী আসাদ, মতিয়ারসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলে ওই পুকুর এলাকায় যান। এসময় ভাড়রা গ্রামবাসী ও বিএনপির নেতাকর্মী মসজিদের মাইকে ‘সন্ত্রাসীরা পুকুরে মাছ মেরে নিচ্ছে, সবাই আসুন’ এমন ঘোষণা দেন। তখন কয়েকশ মানুষ দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোঁঠা, দা, বটি, হাঁসুয়া নিয়ে ধাওয়া করলে প্রতিপক্ষরা একটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাকা সড়ক ঘেঁষে বড় পুকুর। পাড়ে পড়ে আছে একটি মোটরসাইকেল। তাতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। দেশীয় অস্ত্র হাতে কয়েকশ মানুষ ছোটাছুটি করছেন। এসময় ভাড়রার লোকজন গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনার চিত্র ধারণে বাধা দেন ও ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, সরকারি পুকুর নিয়ে অনেকদিন ধরে ঝামেলা চলছে। উত্তর চাঁদপুরের কিছু লোক এসেছিল। তখন ভাড়রার লোকজন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা করেন। তখন পালিয়ে গেলে একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

Advertisement

কিছুক্ষণ পরে ফের সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে। ভাড়রা ও চাঁদপুর বাজারে দুই গ্রামের লোকজন জড়ো হয়েছে।

এসময় চাপড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পুকুর ভোগ করবে ভাড়রাবাসী। ৩৩ জনের কমিটি করে বছর খানেক আগে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মাছ দেওয়া হয়েছে পুকুরে। কিন্তু উত্তর চাঁদপুর গ্রামের ফারুক, আসাদ, মতিয়ারসহ সন্ত্রাসী বাহিনী জোর করে মাছ ধরতে নেমেছিল। আমরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে গ্রামবাসী ছুটে আসেন। আর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। কিন্তু ভাঙচুরের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি তিনি।

তবে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি যদুবয়রা ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপুর গ্রামবাসী ও অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা।

ফোনে আওয়ামী লীগ নেতা এস এম রাসেদ টোটো জানান, ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে তার। প্রতিবছরই প্রায় ৪০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন তিনি। পুকুরে তার প্রায় ১৫ লাখ টাকার মাছ ছিল। কিন্তু সরকার পতনের পর নানান ঝামেলা হচ্ছিল। সেজন্য ইউপি সদস্য সাজেদার কাছে তিনি ৭ লাখ টাকায় হস্তান্তর করেছিলেন। কিন্তু ওই ইউপি সদস্য তাকে কোনো টাকা দেননি।

কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, পুকুর নিয়ে দুইপক্ষের দ্বন্দ্বে একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। তবে তার মালিক পাওয়া যায়নি এখনও। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আল-মামুন সাগর/এমএন/এমএস