জাতীয়

রেজিস্ট্রেশন অর্ডিন্যান্সের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন

 

ভূমি ও দলিল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত ও দীর্ঘদিনের অনিয়ম দূর করতে রেজিস্ট্রেশন (দ্বিতীয় সংশোধন) অর্ডিন্যান্সের খসড়ার নীতিগত চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার, ডেভেলপার ও দলিলদাতাদের দায়িত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বৈঠকে রেজিস্ট্রেশন (দ্বিতীয় সংশোধন) অর্ডিন্যান্সের খসড়া নীতিগতভাবে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

আসিফ নজরুল জানান, বিদ্যমান আইনে দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় ফি কম আদায় বা জাল দলিলের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির মূল দায় দলিলদাতা ও ডেভেলপারদের ওপর থাকলেও, বাস্তবে দীর্ঘদিন ধরে অনেক ক্ষেত্রে সাব-রেজিস্ট্রারদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ থাকায় আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Advertisement

নতুন সংশোধনীতে সরকার প্রথমবারের মতো রেজিস্ট্রেশন ফি আদায়ের পূর্ণ দায়িত্ব সাব-রেজিস্ট্রারের ওপর ন্যস্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। অর্থাৎ, কোনো দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় কম পরিমাণ ফি আদায় হলে তার প্রাথমিক দায়ভার সাব-রেজিস্ট্রারের ওপর পড়বে। এতে করে মাঠপর্যায়ে স্বচ্ছতা ও সতর্কতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে সংশোধনীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। যদি কোনো ক্ষেত্রে সাব-রেজিস্ট্রার প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি সরল বিশ্বাসে ও যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কাজ করেছেন, এবং অপর প্রান্তে দলিলদাতা ব্যক্তি বা ডেভেলপার ইচ্ছাকৃতভাবে জালিয়াতি, তথ্য গোপন বা অন্য কোনো অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন, তাহলে কম আদায় হওয়া ফি সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আদায় করা যাবে।

আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই সংশোধনীর মূল লক্ষ্য হলো— রাজস্ব ফাঁকি রোধ, সাব-রেজিস্ট্রারদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দেওয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত এই সংশোধনী কার্যকর হলে ভূমি ও রেজিস্ট্রেশন খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। পাশাপাশি, ডেভেলপার ও দলিলদাতাদেরও আইনের আওতায় আনতে এটি একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে।

Advertisement

নীতিগত অনুমোদনের পর এখন অর্ডিন্যান্সটি চূড়ান্ত আইনি রূপ পেতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে যাবে। সংশোধনী কার্যকর হলে রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থায় একটি নতুন যুগের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এমইউ/এমএএইচ/