বলিউডের জনপ্রিয় তারকা খুশি কাপুর সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস)- এ ভুগছেন। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি হজমজনিত সমস্যা, যার ফলে হঠাৎ পেট ব্যথা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। খুশি কাপুরের মতে, এই সমস্যা দৈনন্দিন জীবনকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে এবং একে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
Advertisement
আইবিএসে যে ধরনের সমস্যা হয়আইবিএস হলো এমন একটি অবস্থা পাচনতন্ত্রের মধ্যে দিয়ে খাবার যাওয়ার সময় অন্ত্রের প্রাচীরের পেশীগুলো সংকুচিত হয়। যখন এই সংকোচনগুলো শক্তিশালী হয় এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় ধরে চলে, এর ফলে পেটে ব্যথা, ফাঁপা ভাব, অতিরিক্ত গ্যাস, হঠাৎ ডায়রিয়া কিংবা দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও মস্তিষ্ক এবং অন্ত্রের মধ্যে দুর্বল সমন্বয়ের কারণে শরীর হজম প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিবর্তনগুলো অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।
খুশি কাপুরের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, অনেক সময় এই উপসর্গগুলো এতটাই তীব্র হয় যে স্বাভাবিক দৈনন্দিন রুটিনও ব্যাহত হয়ে পড়ে। খাবার খাওয়ার পর পেটে ভারী ভাব বা অস্বস্তি হওয়াও আইবিএস-এর একটি সাধারণ লক্ষণ।
যে কারণে হয় আইবিএসআইবিএসের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং কিছু নির্দিষ্ট খাবার এই সমস্যাকে ট্রিগার করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক ইতিহাসও ভূমিকা রাখে।
Advertisement
আইবিএস কি ভয়ংকরআইবিএস জীবন-হুমকিস্বরূপ কোনো রোগ নয় এবং এতে অন্ত্রে স্থায়ী ক্ষত তৈরি হয় না। তবে এটি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে মানসিক ও শারীরিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই উপসর্গ অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
নিয়ন্ত্রণে যেভাবে রাখতে হয় আইবিএসের স্থায়ী নিরাময় নেই, তবে সঠিক ব্যবস্থাপনায় এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন, প্রোবায়োটিক গ্রহণ, প্রয়োজনে হালকা ওষুধ ব্যবহার এবং মানসিক চাপ কমানো এতে সহায়ক। ভারী, মসলাদার ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ধীরে ধীরে আনা গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো ওষুধ বা সম্পূরক অবশ্যই চিকিৎসকের নির্দেশে নেওয়া উচিত।
এছাড়া প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করার চেষ্টা করা। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতারের মতো ব্যায়াম অন্ত্রের সংকোচনকে সক্রিয় করে, হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। দৈনন্দিন জীবনে চাপ কমাতে মেডিটেশন, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, যোগাসন অনুশীলন করাটা জরুরি। মানসিক প্রশান্তি অন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
খুশি কাপুরের মতো অনেকেই আইবিএস-এ ভুগছেন। সঠিক তথ্য, যত্ন এবং সময়মতো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে এই অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
Advertisement
সূত্র: টাইসম অব ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন: কিসের অভাবে বারবার চকলেট খেতে মন চায় দুপুরের খাবার খাওয়ার সঠিক সময় কোনটি?
এসএকেওয়াই/