যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা তদারকির জন্য গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই বোর্ডে ফিলিস্তিন কিংবা আরব বিশ্বের কোনো মুসলিম নেতার নাম নেই।
Advertisement
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাত সদস্যের এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বোর্ডের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং ট্রাম্পের জামাতা ও দীর্ঘদিনের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। তবে আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও সদস্য নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে বোর্ডের দৈনন্দিন কৌশল ও কার্যক্রম তদারকিতে সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আরিয়েহ লাইটস্টোন ও জশ গ্রুয়েনবাউম। গাজার জন্য হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বুলগেরিয়ার রাজনীতিক ও জাতিসংঘের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ।
এছাড়া গাজার নিরাপত্তা তদারকির জন্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ)-এর প্রধান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্সকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বোর্ডের প্রতিটি সদস্য গাজার স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দিষ্ট খাতের দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে থাকবে শাসন সক্ষমতা গড়ে তোলা, আঞ্চলিক সম্পর্ক, পুনর্গঠন, বিনিয়োগ আকর্ষণ, বৃহৎ তহবিল সংগ্রহ ও মূলধন ব্যবস্থাপনা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এই অন্তর্বর্তী কাঠামোকে পূর্ণ সমর্থন দেবে এবং ইসরায়েল, গুরুত্বপূর্ণ আরব দেশসমূহ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
এদিকে পিস বোর্ডে টনি ব্লেয়ারের অন্তর্ভুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন ইরাক আগ্রাসনে তার ভূমিকার কারণে ব্লেয়ার এখনো আরব বিশ্বে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। ২০০৭ সালে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর তিনি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রচেষ্টায় নিয়োজিত ‘কোয়ার্টেট’-এর বিশেষ প্রতিনিধি হয়েছিলেন, তবে ইসরায়েলের প্রতি অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে ২০১৫ সালে পদত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) 'অপারেশন আয়রন সোর্ড' পরিচালনা করে গাজা উপত্যকাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ৭১ হাজার ৪১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।
Advertisement
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। এছাড়া ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
কে এম