মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে বুকের ওপর ভারী কিছু অনুভব করছিলেন এক নারী। প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো তার পোষা কুকুরই শুয়ে আছে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আতঙ্কে জমে যান। কারণ সেটি কুকুর নয়, বুকের ওপর বসে ছিল প্রায় ৮ ফুট লম্বা একটি অজগর।
Advertisement
সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের ব্রিসবেন শহরে। র্যাচেল ব্লুর নামের ওই নারী জানান, গত সোমবার রাতে ঘুমের মধ্যে তিনি হঠাৎ পেট ও বুকের ওপর ভারী কিছু টের পান। কুকুর ভেবে হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করতেই আঙুলের নিচে মসৃণ কিছু নড়াচড়া করে ওঠে। তখনই বুঝতে পারেন, তার ওপর বসে আছে একটি প্রায় ২ দশমিক ৫ মিটার (প্রায় আট ফুট) লম্বা অজগর।
ভয়ে চমকে উঠে সঙ্গে সঙ্গে স্বামীকে ডাকেন র্যাচেল ব্লুর। আলো জ্বালানোর পর স্বামী তাকে নড়াচড়া না করতে বলেন। ‘ও বললো, নড়বে না। তোমার ওপর একটা বড় অজগর বসে আছে,’ বলেন র্যাচেল।
আরও পড়ুন>>প্লেনের ভেতর সাপ, ২ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়লো ফ্লাইটট্রাক উল্টে উড়ে গেলো কোটি কোটি মৌমাছি, সতর্কতা জারিশ্রীলঙ্কায় দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জন্য বানরকে দুষলেন মন্ত্রীপাচার থেকে রক্ষা পাচ্ছে না পিঁপড়াও, উদ্বিগ্ন পরিবেশবাদীরাপশুপাখি কি ভূমিকম্প আগাম টের পায়?
Advertisement
প্রথমেই তিনি স্বামীকে কুকুরগুলো ঘর থেকে বের করে নিতে বলেন। তার কথায়, ‘আমার ডালমেশিয়ান কুকুরটা যদি সাপটা দেখে ফেলতো, তাহলে ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হতো।’ এরপর নিজেকে শান্ত রেখে ধীরে ধীরে চাদরের নিচ থেকে পাশ ঘেঁষে সরে যান তিনি।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, কোনো পেশাদার সাপ ধরার লোক না ডেকে নিজেই জানালা দিয়ে অজগরটিকে বাইরে বের করে দেন র্যাচেল। তার ধারণা, জানালার প্ল্যানটেশন শাটারের ফাঁক দিয়ে সাপটি ঢুকে দ্বিতীয় তলার শোবার ঘরে উঠে আসে এবং শেষে তার ওপর গুটিসুটি মেরে বসে পড়ে।
‘সাপটা এত বড় ছিল যে আমার ওপর পেঁচিয়ে থাকলেও লেজের একটা অংশ জানালার বাইরে ছিল,’ বলেন তিনি। হাতে ধরার সময় সাপটি খুব একটা উত্তেজিত ছিল না বলেও জানান র্যাচেল।
কার্পেট পাইথন নামে পরিচিত এই অজগরটি বিষধর নয় এবং সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় এলাকায় দেখা যায়। র্যাচেল মজা করে বলেন, ‘সাপ দেখে তিনি ততটা ভয় পাননি, বরং ব্যাঙ হলে বেশি ভয় পেতেন।’
Advertisement
এদিকে সাপ ধরার কর্মী কার্ট হোয়াইট জানান, প্রজনন মৌসুম শেষ হওয়া ও ডিম ফুটতে শুরু করায় এ সময় সাপের চলাচল বাড়ে। গরম আবহাওয়ার কারণে সাপগুলো রোদ পোহাতে বের হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তবে তার মতে, সাপের সংখ্যা বাড়েনি, বরং বনাঞ্চল কমে নতুন আবাসন গড়ে ওঠায় মানুষের চোখে সাপ বেশি পড়ছে। ‘ওদের থাকার জায়গা দরকার, আর আমাদের বাড়ির আঙিনাগুলোই এখন তাদের জন্য আদর্শ আশ্রয়,’ বলেন তিনি।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকেএএ/