চুল লম্বা, মসৃণ ও উজ্জ্বল করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে রাইস ওয়াটারের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বহু বছর ধরেই চুলের পরিচর্যায় এই পদ্ধতির চল আছে।
Advertisement
তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাইস ওয়াটারকে প্রাকৃতিক হেয়ার কেয়ার হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। হাইপ দেখে মনে প্রশ্ন জাগে — এই পদ্ধতি কি সত্যিই কাজের, নাকি শুধুই ট্রেন্ড?
চলুন জেনে নেওয়া যাক -
রাইস ওয়াটারে কী থাকে?
Advertisement
রাইস ওয়াটার তৈরি হয় চাল ভিজিয়ে বা রান্নার পর যে পানি পাওয়া যায়, তা থেকে। এতে শর্করা, কিছু ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উপাদান চুলের ওপরিভাগে সাময়িকভাবে কাজ করে, ফলে চুল কিছুটা মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখাতে পারে।
তবে রাইস ওয়াটার চুলের গোড়া থেকে নতুন চুল গজাতে বা চুল পড়া বন্ধ করতে পারে, এমন কোনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই।
চুলে রাইস ওয়াটার কীভাবে কাজ করে?
রাইস ওয়াটার চুলে ব্যবহার করলে চুলের বাইরের স্তরে একটি পাতলা আবরণ তৈরি হয়। এতে চুল কম জটলা হয়, হাত দিলে নরম ও মসৃণ লাগে। অনেকেই বলেন, এতে চুল দ্রুত বাড়ে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের বৃদ্ধি নির্ভর করে শরীরের ভেতরের পুষ্টি, হরমোনের ভারসাম্য ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর — শুধু বাইরে কিছু লাগালেই এই প্রক্রিয়া বদলে যায় না।
Advertisement
ব্যবহার করবেন কীভাবে?
এক কাপ চাল ভালোভাবে ধুয়ে দুই থেকে তিন কাপ পরিষ্কার পানিতে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর পানি ছেঁকে নিন। শ্যাম্পু করার পর এই রাইস ওয়াটার মাথার ত্বক ও চুলে ঢালুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
তবে এটি সপ্তাহে একবারের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো।
কোন ক্ষেত্রে সাবধান হওয়া দরকার?
যাদের মাথার ত্বক খুব শুষ্ক, খুশকি বা ছত্রাকজনিত সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে রাইস ওয়াটার ব্যবহার করলে উল্টো সমস্যা বাড়তে পারে। কারণ এতে থাকা শর্করা ও প্রোটিন মাথার ত্বকে জমে চুলকানি বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত ব্যবহার করলে চুল শক্ত, রুক্ষ বা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই নিয়মিত ব্যবহারের আগে নিজের চুল ও মাথার ত্বকের ধরন বোঝা জরুরি।
তাহলে ব্যবহার করবেন কি না?
রাইস ওয়াটার চুলের যত্নে একেবারে অকার্যকর নয়। এটি চুলকে সাময়িকভাবে মসৃণ ও উজ্জ্বল করতে পারে। তবে একে চুল পড়া বন্ধ বা নতুন চুল গজানোর নিশ্চিত সমাধান ভাবা ঠিক নয়।
চুল ভালো রাখতে হলে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান, মানসিক চাপ কমানো ও নিয়মিত পরিচর্যার বিকল্প নেই। রাইস ওয়াটার হতে পারে সেই পরিচর্যার একটি সহায়ক অংশ — মূল চিকিৎসা নয়।
সূত্র: ওয়েবএমডি
এএমপি/এমএস