ইন্দোনেশিয়ার নিখোঁজ ছোট প্লেনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। প্লেনটি দেশটির সুলাওয়েসি দ্বীপের একটি পাহাড়ি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্লেনটিতে ১১ জন আরোহী ছিলেন যাদের সকলেই নিখোঁজ রয়েছে।
Advertisement
বিমানে আটজন ক্রু সদস্য এবং সামুদ্রিক বিষয় ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের তিনজন কর্মকর্তা ছিলেন। তারা আকাশপথে সামুদ্রিক নজরদারি মিশনের অংশ হিসেবে যাত্রা করছিলেন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জাভা দ্বীপের জাকার্তা থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী মাকাসারের উদ্দেশে যাত্রাপথে প্লেনটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়।
মাকাসার অনুসন্ধান ও উদ্ধার দফতরের প্রধান মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার জানিয়েছেন, রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার থেকে উদ্ধারকারী দল মাউন্ট বুলুসারাউংয়ের ঢালে জঙ্গলে একটি বিমানের জানালার অংশ দেখতে পায়। পরে স্থলে থাকা উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছে বিমানের মূল কাঠামো ও পেছনের বড় অংশ উদ্ধার করে যা পাহাড়ের উত্তর দিকের খাড়া ঢালে ছড়িয়ে ছিল।
Advertisement
সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার বলেন, বিমানের প্রধান অংশগুলোর সন্ধান পাওয়ায় অনুসন্ধান এলাকা অনেকটাই সীমিত করা সম্ভব হয়েছে। এখন আমাদের যৌথ উদ্ধার দল মূলত যাত্রী ও ক্রুদের খোঁজে মনোযোগ দিচ্ছে, বিশেষ করে কেউ জীবিত থাকলে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
বিমানটি ছিল একটি টার্বোপ্রপ এটিআর- ৪২-৫০০ যা ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্ট পরিচালনা করছিল। শেষবার এটি দক্ষিণ সুলাওয়েসির মারোস জেলার পাহাড়ি লিয়াং-লিয়াং এলাকায় শনাক্ত হয়।
দক্ষিণ সুলাওয়েসির হাসানউদ্দিন সামরিক কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল বাঙ্গুন নাওকো জানিয়েছেন, প্রবল বাতাস, ঘন কুয়াশা এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হলেও রোববার স্থল ও আকাশপথে অনুসন্ধান অব্যাহত ছিল।
জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা ঘন কুয়াশায় ঢাকা সরু ও খাড়া পাহাড়ি পথে হেঁটে ধ্বংসাবশেষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
Advertisement
উল্লেখ্য, ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় যোগাযোগের জন্য ছোট প্লেন ও ফেরির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি একাধিক প্লেন দুর্ঘটনা, বাস দুর্ঘটনা ও ফেরি ডুবে যাওয়ার মতো পরিবহন দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
কে এম