যুদ্ধ–পরবর্তী গাজার শাসনব্যবস্থা পরিচালনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গঠিত তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর নির্বাহী কমিটিতে কাতার ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ইসরায়েল। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, এ বিষয়ে তাদের আগে থেকে জানানো হয়নি।
Advertisement
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার গাজায় অন্তর্বর্তী প্রশাসন তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘বোর্ড অব পিস’র নির্বাহী কমিটির কয়েকজন সদস্যের নাম ঘোষণা করেন। হোয়াইট হাউজের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কাঠামো অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুক্তরাষ্ট্র–মধ্যস্থ যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ।
ঘোষিত সাত সদস্যের ‘ফাউন্ডিং এক্সিকিউটিভ বোর্ড’-এ রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। বোর্ডটির চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই।
গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ডে কাতার–তুরস্কএর পাশাপাশি একটি পৃথক ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে বলা হয়, এই বোর্ড গাজায় কার্যকর শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে মানসম্মত সেবা প্রদানে সহায়তা করবে।
Advertisement
এই বোর্ডে স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার ও টনি ব্লেয়ারের পাশাপাশি থাকছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, কাতারের কূটনীতিক আলি আল-থাওয়াদি এবং আরও কয়েকজন আন্তর্জাতিক কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত তুরস্ক ও কাতার।
আগে জানানো হয়নি নেতানিয়াহুকেইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল এন১২–কে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, কাতার ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি।
তারা বলেন, ‘আমরা নেতানিয়াহুকে নির্বাহী কমিটির গঠন সম্পর্কে আগাম জানাইনি। তিনি তুরস্ক ও কাতারের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি আশা করেননি। কিন্তু গাজা এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে, এটি তার নয়।’
তারা আরও বলেন, ‘নেতানিয়াহু যদি চান ট্রাম্প প্রশাসন গাজা নিয়ে কাজ করুক, তাহলে তা আমাদের পদ্ধতিতেই হবে।’
Advertisement
এদিকে, বোর্ড অব পিসের গঠন নিয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই কাঠামো ইসরায়েলের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং বিষয়টি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় আনা হয়নি।
ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’আরকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বিষয়টি উত্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে।
কে কে রয়েছেন গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ডেহোয়াইট হাউজের তথ্য অনুযায়ী, গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ডের ঘোষিত সদস্যরা হলেন—
স্টিভ উইটকফ (ট্রাম্পের বিশেষ দূত) জ্যারেড কুশনার (ট্রাম্পের জামাতা) হাকান ফিদান (তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী) আলি আল-থাওয়াদি (কাতারের কূটনীতিক) জেনারেল হাসান রশাদ (মিশরের গোয়েন্দাপ্রধান) স্যার টনি ব্লেয়ার (সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী) মার্ক রোয়ান (মার্কিন ব্যবসায়ী) রীম আল-হাশিমি (আমিরাতের রাজনীতিবিদ) নিকোলাই ম্লাদেনভ (বুলগেরিয়ার রাজনীতিবিদ) ইয়াকির গাবাই (সাইপ্রিয়ট-ইসরায়েলি ব্যবসায়ী) সিগ্রিড কাগ (নেদারল্যান্ডসের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী)হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বোর্ড অব পিস ও গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ডের আরও সদস্যের নাম ঘোষণা করা হবে।
সূত্র: হোয়াইট হাউজ, ডয়েচে ভেলে, জেরুজালেম পোস্টকেএএ/