প্রশ্ন: নফল আদায়ের নিয়তে নামাজ শুরু করার পর যদি কোনো কাজা নামাজের কথা মনে পড়ে, তাহলে নিয়ত পরিবর্তন করে ওই নামাজটিকে কাজা নামাজে পরিণত করা যাবে কি?
Advertisement
উত্তর: কোনো নামাজ শুরু করার পর নিয়ত পরিবর্তন করা যায় না। নিয়ত পরিবর্তন করলেও তা অন্য নামাজে পরিবর্তিত হয় না। তাই নফলের নিয়তে নামাজ শুরু করার পর কাজার নিয়ত করলেও ওই নামাজ নফলই থাকবে, ওই নামাজ শেষ করলে তা নফল হিসেবেই আদায় হবে।
তবে কেউ যদি নফল নামাজ ভেঙে কাজার নিয়তে নতুন করে তাকবিরে তাহরিমা বলে নামাজ শুরু করে, তাহলে তা নতুন নিয়ত অনুযায়ী তা কাজা নামাজ গণ্য হবে।
ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন, নামাজ ভেঙে ফেলার নিয়ত করলে, একইভাবে এক নামাজ থেকে অপর নামাজে স্থানান্তরিত হওয়ার নিয়ত করলে প্রথম নামাজ বাতিল হয় না, যতক্ষণ না ভিন্ন নামাজের নিয়তে তাকবির না বলা হয়। (রাদ্দুল মুহতার: ১/৪৪১)
Advertisement
নফল নামাজ শুরু করলে যেহেতু পূর্ণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়, তাই নফল নামাজ শুরু করে ফেললে তা পূর্ণ করেই কাজা নামাজ আদায় করা উচিত। নফল নামাজ ভেঙে কাজা নামাজ পড়লে পরবর্তীতে ওই নফল নামাজ কাজা করে নিতে হবে।
আমাদের প্রত্যেকটি কাজ নিয়তের সাথে সম্পর্কিত বা প্রত্যেকটি কাজের প্রতিদান আমরা পাবো আমাদের নিয়ত অনুযায়ী। ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, প্রত্যেক কাজ নিয়তের সাথে সম্পর্কিত। মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে। (সহিহ বুখারি: ১)
নিয়ত হল মনে কোনো কাজের দৃঢ় ইচ্ছা করা। এই ইচ্ছা সব আমলের জন্য জরুরি। নামাজের জন্যও জরুরি। কেউ যখন নামাজে দাঁড়াবে, তার অন্তরে নিয়ত থাকতে হবে, তার জানা থাকতে হবে যে সে নামাজ শুরু করছে, কোন নামাজ শুরু করছে, কত রাকাত নামাজ সে পড়বে ইত্যাদি।
অন্তরের এই ইচ্ছা ও জানা থাকার নামই নিয়ত। মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা জরুরি নয়। তবে কেউ যদি অন্তরের নিয়তের পাশাপাশি নিয়তের বিষয়টি মুখেও উচ্চারণ করতে চায় তবে তারও অবকাশ আছে। কেউ মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করলে তা নাজায়েজ বা বিদআত হবে না।
Advertisement
ফরজ নামাজগুলোতে কোন নামাজ আদায় করা হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করে জানা থাকা জরুরি। যেমন, ফজরের ফরজ নামাজ পড়ছি, জোহরের ফরজ নামাজ পড়ছি এভাবে কোন ফরজ নামাজ তা নির্দিষ্ট নিয়ত থাকতে হবে। ফরজ নামাজ ছুটে গেলে কাজা আদায়ের ক্ষেত্রেও ওয়াক্ত নির্দিষ্ট করে নিয়ত থাকা জরুরি। আর বিতর নামাজের সময় বিতর নামাজ পড়ছি এ রকম নিয়ত থাকলেই হবে।
ফরজের সাথে প্রতি ওয়াক্তে আমরা যে সুন্নত নামাজগুলো আদায় করি, সেগুলোতে ওয়াক্ত নির্দিষ্ট করে নিয়ত থাকা ভালো, কিন্তু জরুরি নয়। এ সব নামাজ শুধু ‘নামাজ আদায় করছি’ এ রকম নিয়তে আদায় করলেও হয়ে যাবে। কেউ যদি ফজরের আগে দুরাকাত, জোহরের আগে চার রাকাত, মাগরিবের পর দুরাকাত বা ইশার পর দুরাকাত নামাজ শুধু নামাজ পড়ার নিয়তে আদায় করে তাহলে তা ওই ওয়াক্তের সুন্নত হিসেবেই আদায় হবে।
এ ছাড়া অন্যান্য নফলের ক্ষেত্রেও শুধু ‘নামাজ আদায় করছি’ বা ‘নফল নামাজ আদায় করছি’ এমন নিয়ত থাকাই যথেষ্ট।
ওএফএফ