রাজনীতি

আমি এসেছি শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করতে: জাইমা রহমান

নারী ক্ষমতায়িত হলে শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, জাতির ভবিষ্যৎ বদলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে-এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, নারীদের স্বাগত জানানো হলে তারা নিজেদের পাশাপাশি পরিবার ও রাষ্ট্রকেও এগিয়ে নিতে পারে।

Advertisement

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘জাতি গঠনে নারী: নীতি, সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে বক্তব্য দেন জাইমা রহমান।

জাইমা রহমান বলেন, বাংলাদেশ যদি সত্যিকারের টেকসই উন্নয়ন চায়, তাহলে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি শুধু শিক্ষা, চাকরি বা নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এটি ঘর, প্রতিষ্ঠান এবং মানুষের মানসিকতাতেও পৌঁছাতে হবে। এ দায়িত্ব সবার।

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের পলিসি পর্যায়ে তার প্রথম বক্তব্য। তিনি এমন কেউ নন, যিনি সব সমস্যার সমাধান জানেন। তবে সমাজ ও দেশের জন্য নিজের জায়গা থেকে কিছু করার আন্তরিকতা সবার থাকা উচিত। তিনি এসেছেন শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে।

Advertisement

প্রায় দেড় দশক পর গত ২৫ ডিসেম্বর পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরেন জাইমা রহমান। জনপরিসরে দেওয়া প্রথম বক্তব্যে তিনি নারীর অগ্রযাত্রায় তার দাদা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দাদি, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

জাইমা রহমান বলেন, নারীর মর্যাদা ব্যক্তিগত ও জনপরিসর-দুই ক্ষেত্রেই স্বীকৃত হওয়া উচিত। এই বিশ্বাস তার দাদা-দাদির জীবন ও নেতৃত্বে প্রতিফলিত হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মনে করতেন, নারীদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন পূর্ণ হতে পারে না। তার নেতৃত্বে পোশাক খাতের সম্প্রসারণের ফলে লাখো নারী প্রথমবারের মতো প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান এবং আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করেন।

তিনি আরও বলেন, নারী ও কন্যাশিশুদের জীবনমান উন্নয়নে সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও কাঠামোর প্রয়োজন-এই বিশ্বাস থেকেই মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এসব সিদ্ধান্ত কেবল নীতিগত নয়, বরং তার দাদার ব্যক্তিগত মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপির নেতৃত্ব নেন তার স্ত্রী খালেদা জিয়া। তখন তিনি একজন গৃহবধূ ছিলেন। ১৯৮৪ সালের আগস্টে তিনি দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং আমৃত্যু সে দায়িত্ব পালন করেন।

Advertisement

খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরে জাইমা রহমান বলেন, তার দাদি শিক্ষার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মবিশ্বাস অর্জনের গুরুত্ব বুঝেছিলেন। তার নেতৃত্বে কন্যাশিক্ষাকে সুযোগ নয়, অধিকার হিসেবে দেখা হয়। বিনামূল্যে মাধ্যমিক শিক্ষা, ‘খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা’ ও ‘নগদ অর্থের বিনিময়ে শিক্ষা’ কর্মসূচির ফলে লাখো মেয়ে বিদ্যালয়ে থাকতে পেরেছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছাত্রী সহায়তা প্রকল্প প্রথমবারের মতো মাধ্যমিক শিক্ষায় লিঙ্গসমতা আনে এবং আন্তর্জাতিকভাবে অনুকরণীয় মডেল হয়ে ওঠে।

নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাইমা রহমান বলেন, অনলাইন ও অফলাইন-দুই ক্ষেত্রেই তরুণীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। এক্ষেত্রে ডিজিটাল লিটারেসি, আত্মরক্ষামূলক দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। পাশাপাশি আইনি সুরক্ষা থাকলেও তার বাস্তবায়নের ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন। আদালতে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ন্যায়বিচার বিলম্বিত হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নারী নিরাপত্তা জোরদারে কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগ, কার্যকর রিপোর্টিং ব্যবস্থা এবং উন্নত সড়কবাতির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন জাইমা রহমান।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নারীর ক্ষমতায়নে বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

কাজী জেসিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী হক চৌধুরী, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদসহ বিভিন্ন পেশার নারীরা।

কেএইচ/এমআরএম/এমএস