বিপিএল তখন সিলেটে। হঠাৎ একদিন সংবাদ সম্মেলন করে বিসিবির অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের (আকু) বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের সিইও আতিক ফাহাদ। তার মধ্যে সাইফ হাসান ও রহমানউল্লাহ গুরবাজকে প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ছিল অন্যতম। এরপর গতকাল প্রথম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন সাইফ। সেখানে আকুর কার্যক্রমকে অসম্মানজনক বলেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
Advertisement
গত বিপিএলে দুর্নীতি সংক্রান্ত অনেক অভিযোগের পর এবারে বিপিএলে আইসিসির একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয় বিসিবি। তবে টুর্নামেন্ট কলঙ্কমুক্ত রাখতে তারা এবার অনেক কিছুতেই কড়াকড়ি করেছেন বলে দলগুলোর ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে তাদের বাক-বিতণ্ডা হয়েছে এবং তা বিসিবি পর্যন্ত গড়িয়েছে।
গতকাল চলতি বিপিএলে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে চট্টগ্রামকে হারিয়ে জয় দিয়ে আসর শেষ করে ঢাকা। আগের ৮ ম্যাচে ৬০ রান করা সাইফ শেষ ম্যাচে করেন ৭৩ রান। ম্যাচ শেষে পুরো আসরে আকুর কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষের কথা শুনিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘প্রথম দুই-তিন ম্যাচে যখন ক্লিক করিনি, ওদের (দুর্নীতি দমন কর্মকর্তারা) কাছে লেগেছে যে, আমার পারফরম্যান্সটা মিলছে না গত বছরের সঙ্গে, মানে গত বছর যেভাবে খেলেছি। ওদের কাছে জিনিসটা স্বাভাবিক লাগেনি। ওরা এসে হুট করে চার্জ করছে। এটা আমার ভালো লাগেনি। ডিস্টার্বড হয়েছি।’
Advertisement
দল ওই সময়ে সমর্থন দেওয়ায় ধন্যবাদ জানিয়ে সাইফ বলেন, ‘আমি এটার জন্য ক্রিকেট খেলি না। আমি আমার প্যাশন নিয়ে ক্রিকেট খেলি। আমার পারিবারের ব্যাকগ্রাউন্ডও ওরকম না। এই জিনিসটা নিয়ে আমি অনেক বিরক্ত হয়েছি অবশ্যই। তবে ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ ওরা মানে সবসময় আমাকে সমর্থন দিয়ে গেছে।’
ঢাকার সিইও দাবি করেছিলেন ব্যাটিংয়ে নামার আগে জিজ্ঞাসাবাদ করে সাইফকে মানসিক বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাইফ বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে নামার আগে জিজ্ঞেস করেনি। তবে তখন আমাদের ড্রেসিংরুমে এসেছিল। ড্রেসিংরুমে এসে জিজ্ঞেস করছে, ব্যাটিংয়ে নামছো নাকি বা এরকম। ব্যাটিংয়ে নামার আগে ড্রেসিংরুমে ছিলাম। তখন এসেছিল, আর তার আগেরদিন রুমে এসেছিল।’
অবাক হয়েছেন কিনা প্রশ্নে সাইফের উত্তর, ‘অবশ্যই বিস্ময়কর এই ব্যাপারটা। আমি বিশ্রাম নেব, তখন হুট করে এসেছে। (রহমানউল্লাহ) গুরবাজ তো ঘুমাচ্ছিল, তখন এসেছে। আগে থেকে তো জানাবে! হুট করে আসা মানে… এটা তো অনেক অসম্মানজনক।’
সাইফ বললেন, কোনো কিছু না পেয়ে পরে দফায় দফায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন ওই কর্মকর্তারা, ‘তারা দুঃখিত বলছে। রুমে এলো, আসার পর কথা বলল, যখন কিছু পায়নি, তখন ‘সরি’ বলে চলে গেল। তারপরের কয়েকদিন বারবার দুঃখিত বলেছে।’
Advertisement
এসকেডি/আইএন