অর্থনীতি

রসিদ চাইলে গ্যাস সিলিন্ডার ‘নেই’

বাজারে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের। সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৬ টাকার ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। কোথাও কোথাও আরও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে।

Advertisement

ভুক্তভোগী ক্রেতারা জানান, নির্ধারিত দামের কথা বললে অনেক দোকানদার সিলিন্ডার দিতে অস্বীকৃতি জানান। আবার অতিরিক্ত দামে কিনলেও খুচরা বিক্রেতারা কোনো রসিদ দিচ্ছেন না। রসিদ চাইলে বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার নেই। তাদের ভাষ্য, অতিরিক্ত দাম নেওয়া অবৈধ হওয়ায় রসিদ দিলে প্রমাণ থেকে যাবে।

এদিকে অনেক দোকানে এলপিজি সিলিন্ডার একেবারেই নেই। সরবরাহ সংকটের কথা বলে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট আর বাড়তি দামের কারণে ভোক্তাদের ভোগান্তির এমন চিত্র দেখা গেছে।

Advertisement

আরও পড়ুনবেসরকারি নির্ভরশীলতা কাটাতে এলপিজি আমদানির অনুমতি পেয়েছে বিপিসি

আজিমপুরের গৃহিণী রেহেনা আক্তার বলেন, সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, সেই দামে কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। আবার রসিদও দেয় না, অভিযোগ করবো কীভাবে?

খুচরা বিক্রেতারা দাবি করছেন, পাইকারি পর্যায়েই তাদের বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত দামে বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

রাজধানীর হাতিরপুল এলাকার খুচরা সিলিন্ডার বিক্রেতা রমজান বলেন, আমাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। সরকারি রেটে বিক্রি করবো কীভাবে? সিলিন্ডার তো পাওয়াই যাচ্ছে না, যা কয়েকটা পাই বাড়তি দামে কিনি, বাড়তি দামে বিক্রি করি।

Advertisement

অনেক এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকার অদূরে টঙ্গীর সিলিন্ডার ব্যবসায়ী মিঠু মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, সর্বশেষ গত সপ্তাহে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সিলিন্ডার বিক্রি করেছি (১২ কেজির)। এই সপ্তাহে পাচ্ছি না। দোকান একেবারেই খালি। মাহাজন দিতে না পারলে আমরা সিলিন্ডার কই পাবো!

রাজধানীর ধানমন্ডির বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, গতকাল ২ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার (১২ কেজির) কিনেছি। দোকানদারের কাছে রশিদ চাইলাম, দিলো না। এখন রশিদ চাইলে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না।

এদিকে দেশে চলমান সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে বেসরকারি খাতে এলপিজির একক নির্ভরশীলতা কাটাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

সরকার থেকে সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

ফাওজুল কবির খান বলেন, বিপিসিকে এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়া শুরুর জন্য বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসানকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হচ্ছে। কাজ চলছে।  

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে এলপিজির সংকট দেখা দিলে এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়ে ১০ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছিল বিপিসি।

চিঠিতে বলা হয়, দেশের এলপিজি বাজার পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় সংকটের সময় সরকারিভাবে বাজারে হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। ফলে সরবরাহ ঘাটতি ও কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে তা মোকাবিলার কার্যকর কোনো হাতিয়ার সরকারের হাতে থাকে না। বিপিসির ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটি যেন এলপিজি আমদানি করতে পারে সেই প্রক্রিয়া শুরু হলো।

এনএস/ইএ