সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে পোশাকের শীর্ষ ক্রেতারা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান।
Advertisement
তিনি বলেন, বায়াররা এটাকে খুব বেশি ভালোভানে নেননি, তারাও ভীত। সবচেয়ে বড় যে বায়ার, তিনি মেসেজের পর মেসেজ করছেন। তারা বাংলাদেশ থেকে সোর্সিং করেন। দেশের ভেতের তাদের নমিনেটেড স্পিনিং মিল আছে, দেশের বাইরেও আছে। দেশের বাইরে যে নমিনেটেড স্পিনিং মিলগুলো আছে, সেগুলো নিয়ে তারা চিন্তিত।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত পোশাক শিল্পের জন্য হুমকি: পাট শিল্পের পরে গার্মেন্টস শিল্প বন্ধের পাঁয়তারা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান।
আরও পড়ুন১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার৫০ টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে গেছে: বিটিএমএ সভাপতিকম দামে সুতা রপ্তানি করে ভারত আগ্রাসন চালাচ্ছে: রাজীব হায়দার
Advertisement
ফজলে শামীম এহসান বলেন, পার্শ্ববর্তী কোনো দেশ বাংলাদেশে সুতা ডাম্পিং করলে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বিধান মেনে অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি আরোপ করা যেতে পারে। সেটি না করে সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ করায় পুরো গার্মেন্টস খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এরই মধ্যে বিদেশি ক্রেতারা এ বিষয়ে জানতে চাচ্ছেন। তাছাড়া বাংলাদেশের স্পিনিং মিলগুলো উচ্চমান ও মূল্যের সুতাও উৎপাদন করতে পারে না। তাহলে এ ধরনের পোশাক রপ্তানি আদেশও পাওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, গত ৩০ বছরে তৈরি পোশাক খাতে যত প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, তার পুরোটাই ভোগ করেছে টেক্সটাইল খাত। তারপরও তাদের প্রতিযোগী সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলো না কেন?
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি আরও বলেন, বেনাপোল পোর্ট বন্ধ করায় দেশের কী লাভ হয়েছে সরকারকে সবার সেই প্রশ্ন রাখতে হবে। দেশের কী লাভ হয়েছে সরকারকে তা জানাতে হবে।
তিনি বলেন, ভারত যেমন অ্যান্টি ডাম্পিং দেয় প্রয়োজনে ভারতীয় সুতার ওপর অ্যান্টি ডাম্পিং দেন। এই পথে না গিয়ে তারা আমাদের হাত-পা বাধার জন্য এই পথে গেছে। স্পিনিং মিলগুলো নেই, এটি যদি সঠিক হয়- তবে আমরাও তো কেউ ভালো নেই। আমরা আইসিইউ’র মধ্যে আছি। তার মানে আরেকজন বাঁচতে পারবে না তা নয়। যার যার রাস্তা তাকেই ঠিক করতে হবে। ওনাদের বাঁচতে ওনাদের পলিসি তৈরি করতে হবে। ওনাদের একমাত্র বায়ার আমরা।
Advertisement
শামীম এহসান বলেন, ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া সুতা রপ্তানি করে। বাংলাদেশ কেন সুতা রপ্তানি করতে পারে না? এক্সোসরিজসহ অন্যরা রপ্তানি করতে পারলে আপনারা করতে পারেন না কেন? আপনাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার অভাব। কীভাবে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো যায় সেখানে আপনাদের হাত দিতে হবে। প্রণোদনা আপনারও নিতে পারবেন, কিন্তু সারাজীবন অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে লাভবান হতে পারবেন না। নিজেরা বাঁচতে অন্যকে মেরে ফেলতে হবে, এমনটি তো ভাবার নয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সালাম, পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম, পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল, সাবেক সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম এবং বিজিএমইএ’র জনসংযোগ ও প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন
ইএইচটি/ইএ