খেলাধুলা

বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ বয়কটের খবর ভুয়া!

হঠাৎ করেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়াতে চেয়েছে পাকিস্তান। গতকাল ১৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘ভারতের মাটিতে যে বাংলাদেশ খেলতে যেতে চায় না- এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

Advertisement

সে আলোকে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বিসিবির পাশে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছে তারা।

পিসিবির মতে, বাংলাদেশের দাবি যৌক্তিক। ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ জাতীয় দল, ভক্তকুল ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সেই নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতেই বাংলাদেশ ভারতে নয়, শ্রীলঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে চায়।

জিও নিউজের যে রিপোর্টার এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন, জাগোনিউজের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে— জিও টিভি ও জিও নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার সোহেল ইমরান জানান, একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তারা এ তথ্য পেয়েছেন। অর্থাৎ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার খবরটি পিসিবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়।

Advertisement

তারপরও বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুরাগীরা খবরটিকে ইতিবাচক হিসেবেই নিয়েছেন। তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এই ভেবে যে, ‘যাক! আমরা সত্য কথা বলে, প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে যেতে চাচ্ছি না। তার পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় ওয়ার্ল্ডকাপ খেলতে চাই, অন্তত সেই ইস্যুতে অন্তত পাকিস্তানের নৈতিক সমর্থনতো পাওয়া গেল!

মোটকথা, সাধারণ ক্রিকেটভক্তরা ওই খবরে খুশিই হয়েছিলেন। অনেকেরই আশা ছিল, পিসিবি বাংলাদেশের দাবির পক্ষে আইসিসির ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে।

আগেই জানা, চিরশত্রু ভাবাপন্ন দেশ ভারত ও পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো নয়। দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কও স্বাভাবিক নয়। কেউ কারও দেশে গিয়ে খেলে না। আন্তর্জাতিক কিংবা মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও সৌহার্দ্য বিনিময় দেখা যায় না— এমনকি সাধারণ করমর্দনও হয় না।

সে কারণে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান তথা পিসিবি বরাবরই সোচ্চার। তাই অনেকেরই ধারণা ছিল, পাকিস্তান বাংলাদেশের হয়ে ভারত ও আইসিসির বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারে এবং বাংলাদেশের দাবির পক্ষে জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

Advertisement

এদিকে আজ দুপুর নাগাদ আরেকটি খবর ছড়িয়ে পড়ে, যা বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। পাকিস্তানি কিছু গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, ‘বাংলাদেশের দাবি মানা না হলে পাকিস্তানও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে না এবং বয়কট করবে। এমনকি পিসিবি নাকি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে জাতীয় দলের অনুশীলনও বন্ধ করে দিয়েছে।’

স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশে এই খবর ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেকেই নতুন করে ভাবতে শুরু করেন— ‘এবার হয়তো আইসিসির টনক নড়বে। বাংলাদেশের দাবি মেনে শ্রীলঙ্কায় খেলার ব্যবস্থা না করলে আইসিসিকে এখন পাকিস্তানকেও সামলাতে হবে।’

পাকিস্তানও যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলে, তাহলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। এমন অবস্থায় নতুন কোনো সমীকরণ, হিসাব-নিকাশ কিংবা প্রক্রিয়ার উদ্ভব ঘটতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কায় গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনার দরজাও খুলে দিতে পারে— এমন আশাই করেছিলেন অনেকে।

তবে সোমবার সন্ধ্যায় আসে ভিন্ন খবর। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শীর্ষ ও জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিক ‘গালফ নিউজ’ এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত এবং অনুশীলন বন্ধের ঘোষণাকে অমূলক বলে উল্লেখ করেছে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করলেও আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না পাকিস্তান। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বাংলাদেশ যদি ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তবুও পাকিস্তান বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াবে না।’

পিসিবির একটি ঘনিষ্ট সূত্রের কথা উল্লেখ করে নিউজটিতে লেখা হয়েছে, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যদি ভারতে খেলতে না যায়—সে ক্ষেত্রে পাকিস্তানও কি টুর্নামেন্ট বয়কট করবে? এমন প্রশ্নে পিসিবির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র রেভস্পোর্টজকে জানায়, ‘না, এটা পিসিবির অবস্থান নয়।’

পাকিস্তান যদিও বিশ্বকাপ বয়কট করবে না, তবে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে তারা। পিসিবির মতে, ভারতে গিয়ে খেলতে না চাওয়ার পেছনে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত উদ্বেগ যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য।

এআরবি/আইএইচএস