ক্যাম্পাস

ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধকারীরা কোন মুখে জাতীয় নির্বাচনে যাবে?

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, যাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করেছি সেই পক্ষই আজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন বানচাল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, যারা ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করতে চায়, তারা কোন মুখে জাতীয় নির্বাচনে জনগণের কাছে যাবে?

Advertisement

রোববার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে ডাকসু প্রাঙ্গণে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন চার সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের নয় দফার অন্যতম দফা ছিল দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করা।

জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী প্রথম ডাকসু নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে হয়েছে। এরপর ধারাবাহিকভাবে চাকসু, জাকসু, রাকসু ও জকসু নির্বাচন হয়েছে। এসব নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দল বিজয়ী হয়নি, বিজয়ী হয়েছে গণতন্ত্র।

Advertisement

সাদিক কায়েম বলেন, একাধিকবার পেছানোর পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য সর্বশেষ ২০ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু নির্বাচন যখন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার পথে, ঠিক তখনই একটি রাজনৈতিক পক্ষ নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান নিয়ে এবং রিটের মাধ্যমে নির্বাচন স্থগিত করার চেষ্টা করে।

তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যদের করা রিটের পর চার সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে, যা ছাত্রসমাজের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের শামিল। যারা ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করতে চায়, তারা কোন মুখে জাতীয় নির্বাচনে জনগণের কাছে যাবে?

ডাকসু ভিপি আরও বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন কোনো রাজনৈতিক দল বা ছাত্র সংগঠনের বিজয়ের বিষয় নয়; এটি গণতন্ত্রের বিজয় এবং জুলাইয়ের শহীদদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে তা ফ্যাসিবাদী কাঠামোর অস্তিত্বকেই প্রমাণ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। অন্যথায় ছাত্রসমাজ শক্ত অবস্থান নিতে বাধ্য হবে।

Advertisement

এফএআর/এমআইএইচএস/জেআইএম