নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজের জবাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন পাবনা-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান জাফির তুহিন।
Advertisement
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেন ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এসময় ভবিষ্যতে তিনি ও তার অনুসারীরা আচরণবিধি মেনে চলবেন এ মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা জমা দিতে বলা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগাম প্রচারণা চালানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) পাবনা-৩ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান ও পাবনা সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক সঞ্চিতা ইসলাম এ শোকজ নোটিশ জারি করেন।
Advertisement
নোটিশে বলা হয়, প্রার্থী হিসেবে তার পক্ষে ‘লিখন সরকার’ নামের একটি ফেসবুক আইডিসহ একাধিক আইডি থেকে ধানের শীষ প্রতীকের ভোট চেয়ে স্লোগানসহ স্থিরচিত্র ও ভিডিও চিত্র নিয়মিতভাবে প্রচার করা হচ্ছিল, যা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নজরে আসে। অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ভোটের তিন সপ্তাহ আগে কোনো প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর আইনগত কোনো সুযোগ নেই। ফলে এই অনলাইন তৎপরতা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৮-এর সরাসরি, সুস্পষ্ট এবং গুরুতর লঙ্ঘন। এর জেরেই তাকে শোকজ করা হয়।
শুনানিতে হাজির হয়ে তুহিন অভিযোগ অস্বীকারের কোনো পথ না পেয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে তিনি নিজে অথবা তার কোনো সমর্থক যেন কোনোভাবেই আচরণবিধি লঙ্ঘনে জড়িত না হন সে বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন।
তবে বিচারিক কমিটির সামনে ক্ষমা চেয়ে অঙ্গীকারনামা দিতে স্বীকার করলেও গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যায় তাকে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তুহিনের আইনজীবী ও পাবনা জেলা জজ আদালতের জিপি অ্যাডভোকেট আরশেদ আলম সাংবাদিকদের কোনো তথ্য দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। একই ধরনের আচরণ করেন স্বয়ং প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন। তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করেই এড়িয়ে যান।
Advertisement
আলমগীর হোসাইন নাবিল/এফএ