একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাওলানা আবুল কালাম আযাদ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করতে রায়ের সত্যায়িত অনুলিপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়ার আদেশ পেয়েছেন।
Advertisement
একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তার সাজা স্থগিতের আদেশও বহাল থাকবে। আযাদের আপিলের জন্য নথিপত্র সরবরাহ করতে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি নিয়ে বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। অন্য সদস্যরা হলেন, বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আদালতে আজ আযাদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মশিউল আলম।
এর আগে সকালে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন। পরে আপিলের জন্য রায়ের সত্যায়িত অনুলিপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি আবেদন করেন।
Advertisement
পলাতক থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত সদস্য মাওলানা আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেয় বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটিই ছিলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়। রায় ঘোষণার আগেই তিনি পালিয়ে যান। পরে তার অনুপস্থিতিতে বিচার ও রায় ঘোষণা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রকাশ্যে আসেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আযাদ। এরপর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে রাষ্ট্রপতি তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
আযাদের আইনজীবী মশিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, ২০১৩ সালে ট্রাইব্যুনাল মাওলানা আযাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আত্মসমর্পণ করে আপিল নথি করার শর্তে গত বছর রাষ্ট্রপতি তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেন। গত বছরের ২২ অক্টোবর এটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
Advertisement
এফএইচ/এমকেআর/জেআইএম