কৃষি ও প্রকৃতি

মাগুরায় খেজুরের গুড়ে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

রসের গ্রাম মাগুরার পাটকেল বাড়ি। এই গ্রামের গাছ মালিক এরশাদ। তিনি মাঠের ভেতরে বিশাল খেজুর বাগান করেছেন। যেখানে আছে ৪০০ খেজুর গাছ। সেখানে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে এসেছেন তিন গাছি। দুই ভাই আ. খালেক ও আ. মালেক। সঙ্গে আছেন শ্যামল। অক্টোবরের শুরুতে এখানে গাছ কাটা শুরু হয়। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি গাছ কাটা শেষ হবে।

Advertisement

গাছি আ. খালেক বলেন, ‌‘জীবিকার তাগিদে এখানে এসেছি। বলা যায়, আমাদের একটা ছোট সংসার। শাহরিয়ার সিজান ভাইয়ের মাধ্যমে এসেছি। চার মাস এ বাগানে কাজ করবো। আগের বছর একই ভাবে কাজ করেছি। শীতের মৌসুমে এমন দুর্গম মাঠের ভেতরে থেকে রস সংগ্রহ, গুড় ও পাটালি তৈরি করা কষ্টের। তবুও পেশার কারণে করছি। এলাকার মানুষ আমাদের খুবই ভালোবাসে। সম্মান করে। এটাই বড় প্রাপ্তি।’

গাছি শ্যামল বলেন, ‘গাছ কাটা ও রস সংগ্রহ করা খুবই চ্যালেঞ্জের কাজ। তিনজনে চার মাস এখানে থেকে কাজ করছি। মাঝে মাঝে রাজশাহী বেড়াতে যাই। এখানে রান্না করে খাওয়া অনেক কষ্টের। রাতে এখানে থাকতে হয়। না হলে রস চুরি হয়। সাথে বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ অঞ্চলে গাছি কম থাকায় আমাদের ওপর নির্ভরশীল তারা। এখানকার মানুষের সাথে থাকতে থাকতে পারিবারিক সম্পর্কের মতো হয়ে গেছে।’

আরও পড়ুননড়াইলে কমেছে খেজুর গাছ, গাছিরও অভাব ঝিনাইদহে খেজুর রস সংগ্রহে বেড়েছে গাছিদের ব্যস্ততা 

Advertisement

এখানকার গুড় ও পাটালি স্থানীয় বাজার বাদেও অনলাইন পেজের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তরুণ উদ্যোক্তা শাহরিয়ার সিজান এবং রিজু বিশ্বাস। শাহরিয়ার সিজান বলেন, ‘মাগুরায় খেজুর গাছ ও গাছির সংকট। যে গাছ আছে তা-ও কাটার লোক নেই। তাই ৩-৪ মাসের জন্য রাজশাহী থেকে অভিজ্ঞ গাছি নিয়ে এসেছি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে রস সংগ্রহ ও খাঁটি খেজুরের গুড় প্রস্তুত করা হয়। মাত্র ৪ মাসে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভ হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। আশা করছি, চলতি মৌসুমে ৪-৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হবে। প্রতি কেজি ভেজালমুক্ত খেজুর গুড়ের পাটালি ৫৫০ টাকা, দানাগুড় ৪৫০ টাকা ও জোলাগুড় ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

স্থানীয় শিক্ষক বিপ্লব ঘোষ বলেন, ‘খেজুর গাছ ইটভাটায় ব্যবহার হওয়ার ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় শীতের সকালে গাছিরা রস সংগ্রহ করে গ্রামে গ্রামে বিক্রি করতেন। খেজুরের রসের পিঠাপুলি লোভনীয়। বেশিরভাগ পিঠা তৈরি হয় খেজুরের গুড় দিয়ে। এই সময়টা এলে দেখা যায় পিঠাপুলির উৎসব। সেই আমেজ এখন নেই বললেই চলে। দুই বছর হলো শাহরিয়ার সিজান রাজশাহী থেকে ৪ মাসের জন্য অরগানিক গুড় ও পাটালির কারখানা করেছেন। এলাকার মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। পাশাপাশি গুড় ও পাটালির চাহিদা মিটছে।’

মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/এসইউ

Advertisement