কুমিল্লা-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আইন বহির্ভূতভাবে যদি বিএনপির ঋণখেলাপিদের আপনি নির্বাচনে আনতে চান, তাহলে আওয়ামী লীগ কী দোষ করেছে? তিনি বলেন, লুটেরাদের জন্য আমরা বাংলাদেশকে হারাম করে দেবো। ব্যাংক চোরদের সংসদে পাঠিয়ে কখনই ব্যাংকচোর ধরা যাবে না।
Advertisement
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
কুমিল্লা–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট সরাসরি খারিজ করেছেন হাইকোর্ট।
শুনানি শেষে আইনজীবীরা জানান, এ রায়ের ফলে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। রিটের শুনানি উপলক্ষে এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ হাইকোর্টে উপস্থিত ছিলেন।
Advertisement
এ প্রসঙ্গে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ‘লুটেরা’রা সক্রিয় হয়েছে। তাদের পরিচয় একটাই— তারা ব্যাংক খেলাপি ও ভোট ডাকাত। তিনি অভিযোগ করেন, এসব ব্যক্তি জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার করে নিজেদের ও পরিবারের বিলাসী জীবনযাপনে ব্যয় করছে।
জুলাই যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ভোট ডাকাত, ব্যাংক ডাকাত, ঋণখেলাপি ও লুটেরাদের জন্য বাংলাদেশকে ‘হারাম’ করে দেওয়া হবে। এসব লোক কেবল নির্বাচনের সময় দেশে আসে। অনেকেই মূলত বিদেশি নাগরিক, যারা সুসময়ের পাখির মতো ভোটের সময়ই সক্রিয় হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, শিয়ালকে মুরগি পাহারার দায়িত্ব দিলে যেমন অযৌক্তিক হয়, তেমনি যারা ব্যাংক লুট ও চুরি করেছে, তাদের সংসদে পাঠিয়ে ব্যাংকচোর ধরা সম্ভব নয়। ব্যাংকচোরদের সংসদে বসালে কখনই ব্যাংকচোরদের ধরা যাবে না।
তিনি বলেন, আমরা চাই জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্বশীল ব্যবস্থায় যারা ক্ষমতায় আসবে আসুক, তাদের ক্ষমতায় আসায় কোনো আপত্তি নেই। তবে এটি আমাদের দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের অংশ। ঋণখেলাপিরা এ লড়াইয়ে জনগণের সমর্থন পাবে না। ৫ আগস্ট জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, পরে নির্বাচন কমিশনও করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে জনগণ আবারও চূড়ান্তভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করবে বলে আমি আশা প্রকাশ করছি।
Advertisement
এফএইচ/এমএএইচ/এমএস