প্রবাস

তুরস্কে সাঁড়াশি অভিযানে আটক ৪৭৮ অবৈধ অভিবাসী

অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও মানবপাচার দমনে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে তুরস্ক। অভিযানে ৪৭৮ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটকের পাশাপাশি সন্দেহভাজন ১৯ মানবপাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে দেশটির আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২২ জুন) দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অভিবাসন অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পুলিশ, জেন্ডারমেরি, কোস্টগার্ড এবং সীমান্ত টহল দল মিলে দেশটির ৮১টি প্রদেশে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে মোট তিন লাখ ৭২ হাজার ৪০৯ জনের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৭৮ জনকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে শনাক্ত করেছে অভিযান পরিচালনকারী দল।

Advertisement

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের ১৪ হাজারেরও বেশি স্থানে এই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন বাহিনীর ২৭ হাজারের বেশি সদস্য অংশ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা মানবাধিকার, নাগরিক মূল্যবোধ ও আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। একইসঙ্গে জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার মোকাবিলা থেকে শুরু করে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক সুরক্ষা এবং নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আমরা এমন একটি নীতি অনুসরণ করছি, যা গোটা বিশ্বের জন্য উদাহরণ।

ইয়েরলিকায়া বলেন, আটক করা অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মানবপাচারের বিরুদ্ধে লড়াই দৃঢ়ভাবে অব্যাহত থাকবে।

Advertisement

মন্ত্রী বলেন, আমাদের কৌশলগত পদ্ধতি দেশকে অবৈধ অভিবাসন ও ট্রানজিট দেশে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করেছে।’

গত কয়েক বছরে তুরস্কে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা তুলনামূলক কমেছে। কিন্তু আফ্রিকা এবং আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে তুরস্কে এখনও অভিবাসীরা আসছেন। আর এসব কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক অবস্থানে আছে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

তুরস্ক সরকারের দাবি, সিরীয় শরণার্থী ও অভিবাসীদের আগমন সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা উদাহরণযোগ্য এবং মানবিক।

‘মোবাইল মাইগ্রেশন পয়েন্ট’ চালুর মাধ্যমে এই অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে তুরস্ক। এর মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসী ও সন্দেহভাজন বিদেশিদের পরিচয় দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে।

এসব ‘পয়েন্ট’ বা মোবাইল ইউনিটগুলো অভিবাসী এলাকায় মোতায়েন করা হয়। বিশেষ করে দেশটির জনবহুল শহর ইস্তাম্বুল থেকে শুরু করে ইজমির পর্যন্ত এই ইউনিটগুলো খুবই সক্রিয়া।

ইজমিরের ভৌগোলিক অবস্থান গ্রিক দ্বীপের কাছাকাছি হওয়ায় অনেক অবৈধ অভিবাসীরা ইজমিরে ভিড় করেন। সেখানকার উপকূল থেকে নৌকা পাড়ি দিয়ে অনেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশ গ্রিসে ঢোকার চেষ্টা করেন।

এমআরএম