সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের মধ্যেই ফের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
Advertisement
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ছেলে ও মেয়েদের আবাসিক হল প্রদক্ষিণ শেষে ‘প্রশাসনিক ভবন-১’ এর সামনে জড়ো হয়। রাত ৮টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিন দুপুরেও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘হাইকোর্ট না শাকসু, শাকসু শাকসু’, ‘শাকসু নিয়ে তাল বাহানা, মানি না-মানব না’, ‘আই হ্যাভ এ প্লান, শাকসু ব্যান’, ‘সাস্টিয়ানদের ডিসিশন, মানতে হবে প্রশাসন’, ‘শাকসু আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’, ‘শাকসু চাই শাকসু দাও, নইলে গদি ছাইড়া দাও’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
শাকসুতে স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী পলাশ বখতিয়ার বলেন, নানা তালবাহানার পরেও জাতীয় নির্বাচনের আগে আমাদের ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। বিএনপি সর্বশক্তি দিয়ে এ শাকসু বন্ধ করার চেষ্টা করছে। আমরা শিক্ষার্থীদের কথা বলেছি। তারা আশঙ্কা করছে, শাকসু যদি না হয় পূর্বের মতো অপরাজনীতি ফিরে আসবে। শিক্ষার্থীরা চান শাকসু হোক। ভোটের মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চান।
Advertisement
তিনি আরও বলেন, হাইকোর্ট শাকসু নির্বাচনকে বড় ইস্যু হিসেবে দেখাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনেরও যথেষ্ট গাফিলতি রয়েছে। হাইকোর্টে এ রিটকে যেভাবে বিবেচনা করা উচিত, প্রশাসন সেভাবে নিচ্ছে না। আপিল করার পরও সেটার শুনানি হচ্ছে না। আমরা চাই রোববারে শুনানি হোক এবং রায়টি শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের পক্ষে আসুক।
ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলমান রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেটা চান, সেটাই হবে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর গত ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে এর একদিন আগে হাইকোর্টের রায়ে শাকসু নির্বাচন আয়োজনে ৪ সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। পরে ২১ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বিবৃতি দেন। শিক্ষার্থীদের ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের মধ্যে আজ ফের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এসএইচ জাহিদ/এমএন
Advertisement