ক্যাম্পাস

ছাত্রদলের চাঁদাবাজির ভিডিও প্রজেক্টরে তুলে ধরলো ডাকসু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ভ্রাম্যমাণ ও ক্ষুদ্র দোকান ঘিরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও উচ্ছেদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবার সরাসরি ভিডিও, অডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ প্রজেক্টরে প্রদর্শন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

Advertisement

রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে ডাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডকুমেন্টারি ফিল্মের মাধ্যমে এসব তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, আমরা কারও পতন চাই না, আমরা সংশোধন চাই। যেসব দলের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল, শোকজ করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

তিনি আরও বলেন, আমরা ভেবেছিলাম তারেক রহমান দেশে ফিরে দলের নাম ব্যবহার করে যারা চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী আমাদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা ছিল বাংলাদেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসসহ কোথাও যেন চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্ব না থাকে।

Advertisement

এদিকে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমার বক্তব্যে ছাত্রদলের আরও কয়েকজন নেতার নাম উঠে আসে। তারা হলেন—বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ হাসান সাদ (২০২২ ২৩ শিক্ষাবর্ষ), সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবিদ আব্দুল্লাহ (যিনি ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে উমামা ফাতেমা নেতৃত্বাধীন ‘স্বতন্ত্র ঐক্য জোট’ প্যানেল থেকে প্রার্থী ছিলেন), রাতুল (চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ ২০২২-২৩), কাওসার মাহমুদ (ফারসি ২২-২৩) ও সানি সরকার (রাষ্ট্রবিজ্ঞান ২২-২৩)।

সর্বমিত্র চাকমা বলেন, জব্দকৃত দোকান মালিকদের বক্তব্য ও ছাত্রদল নেতাদের বক্তব্যের মধ্যে অমিল পাওয়ার পর আমরা পুরো বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেই এবং ইতিমধ্যে প্রকাশিত ডকুমেন্টস সংগ্রহ করি।

তিনি আরও জানান, মূলত পরিকল্পনাটি ছিল—দোকানটি শিক্ষার্থীদের দোকান হিসেবে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে সেখান থেকে দৈনিক ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ঢাবি ছাত্রদল নেতাকর্মীদের পাল্টা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

Advertisement

এফএআর/এমএমকে