দেশজুড়ে

সড়কে শুঁটকির বাজার, ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল

সড়কের দুই পাশের ফুটপাত ও রাস্তা মিলে ৫০টির বেশি স্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ শুঁটকির দোকান। নীলফামারীর সৈয়দপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার মহাসড়কেই বসছে এসব দোকান। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ২২টি পথে বাস চলাচল করে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রী ও চালকরা।

Advertisement

সরেজমিনে দেখা যায়, বাস টার্মিনাল এলাকায় হাজারও মানুষের জটলা। কেউ বাসযাত্রী, কেউ পথচারী, আবার কেউ শুঁটকি ক্রেতা-বিক্রেতা। বাস টার্মিনালের উত্তর-পূর্ব কোণে নীলফামারী বাইপাস সড়কের ওপর বিশাল এক শুঁটকির বাজার। এ শুঁটকি বাজারে ভারত, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ থেকেও মাছ আমদানি করা হয়।

শুঁটকি বন্দরের ব্যবসায়ী জীবন ইসলাম জানান, আশির দশকের শুরুতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শুঁটকি ব্যবসায়ীরা বন্দরটি গড়ে তোলেন। ধীরে ধীরে বন্দরটির ব্যাপ্তি ঘটে। উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় শুঁটকি বন্দর হওয়ায় এখানে প্রতিদিন শত শত পাইকার ব্যবসায়ীর সমাবেশ ঘটছে।

ভোগান্তির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‌‘বন্দরটি সড়কঘেঁষা হওয়ায় অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা রাস্তার ওপরই শুরু করে দেন বেচাকেনা। তবে শুঁটকি বন্দরে ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ মোকাম রয়েছে। মার্কেটও রয়েছে।’

Advertisement

নিজাম উদ্দিন, রেয়াজুল ইসলাম ও দুলাল নামে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, টার্মিনাল এলাকায় শুঁটকি ব্যবসায়ীদের বড় বড় মার্কেট রয়েছে। তবুও ওই ব্যবসায়ীরা মার্কেটের পরিবর্তে সড়কের ওপরই বেচাকেনায় বেশি অভ্যস্ত। এতে করে টার্মিনালে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে।

তারা বলেন, অতীতে সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাস্তার ওপর থেকে বাজারটি অপসারণ করার দাবি তাদের।

সৈয়দপুর ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক মাহফুজ ইসলাম বলেন, টার্মিনাল এলাকাটি এমনিতেই দুর্ঘটনাপ্রবণ। ওই এলাকায় অসংখ্য বাসযাত্রী চলাচল করে। দূরপাল্লা ও আঞ্চলিক সড়কের বাস চলাচল করায় এলাকাটি অনেক বেশি ব্যস্ততম। ফলে তা ঝামেলামুক্ত রাখা উচিত। কিন্তু শুঁটকি বন্দরের কারণে বাসটার্মিনাল এলাকা কখনোই ঝামেলামুক্ত থাকেনি। ওই এলাকা নিরাপদ রাখতে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকে হিমশিম খেতে হয়।

এ বিষয়ে নীলফামারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকাটি বেশ ব্যস্ততম। সেখানে সড়কের ওপরে হাট-বাজার গড়ে ওঠা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এ বিষয়ে দ্রুত পদেক্ষেপ নেওয়া হবে।

Advertisement

আমিরুল হক/এসআর/এমএস