জাতীয়

পৌনে ১৪ কোটি টাকার ক্রুড অয়েল উধাওয়ের ঘটনায় দুদকের অভিযান

জাহাজ থেকে খালাসের সময় পৌনে ১৪ কোটি টাকার ক্রুড অয়েল উধাও হওয়ার ঘটনায় ইস্টার্ন রিফাইনারি ও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনে (বিএসসি) অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

Advertisement

জাগো নিউজে ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি/জাহাজ থেকে ট্যাংকে যেতেই উধাও ১৪ কোটি টাকার জ্বালানি তেল’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গার ইস্টার্ন রিফাইনারি এবং সল্টগোলা এলাকার বিএসসির প্রধান কার্যালয়ে এ অভিযান চালায় দুদক।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান।

দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

Advertisement

আরও পড়ুন১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে কার ভাগে কত টাকা?২০৭০ কোটি টাকার আমানত নিয়ে ‘বেকায়দায়’ বিপিসিঅভিজ্ঞতা নেই, তবুও ১৫ বছর এসপিএম অপারেশনে আগ্রহী শিপিং করপোরেশন

তিনি বলেন, ‌‍আমদানি করা ক্রুড অয়েল খালাসের সময় দুই জাহাজের পৌনে ১৪ কোটি টাকার ক্রুড অয়েল উধাও হয়ে যাওয়া নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইস্টার্ন রিফাইনারি এবং শিপিং কর্পোরেশনে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ সময় ইস্টার্ন রিফাইনারি ও শিপিং কর্পোরেশন থেকে উল্লেখিত দুই জাহাজের সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাগো নিউজ। এদিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুদক জানিয়েছে, ‌ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্রুড অয়েল খালাসে প্রায় পৌনে ১৪ কোটি টাকার তেল গায়েবের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ও ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসিতে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে টিম প্রথমে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন চট্টগ্রাম অফিসে উপস্থিত হয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে। পরে এনফোর্সমেন্ট টিম ইস্টার্ন রিফাইনারির পতেঙ্গা অফিসে গিয়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে।

Advertisement

দুদক জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা ‘নরডিক স্কিয়ার’ ও ‘নরডিক ফ্রিডম’ নামক দুটি জাহাজ থেকে ক্রুড অয়েল খালাসের সময় স্বাভাবিক ওশান লস বাদ দিয়ে নেট শর্ট লেন্ডিংয়ের বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা হলে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যায়। পতেঙ্গা ডলফিন জেটি থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির শোর ট্যাঙ্ক এ তেল নেওয়ার সময় শর্ট লেন্ডিংয়ের (তেল কমে যাওয়া) ঘটনায় তেলের পরিমাণ, যৌথ সার্ভে প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। সংগৃহীত রেকর্ডপত্রের আলোকে অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে কমিশন বরাবর দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এমডিআইএইচ/ইএ