আইন-আদালত

চানখাঁরপুলে আনাসসহ ৬ হত্যা: আট আসামির ভাগ্য নির্ধারণী রায় আজ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে আনাসসহ ৬ হত্যার অভিযোগে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি)। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ রায় হবে।

Advertisement

গত বছরের ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রথম রায় ঘোষণা করা হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এ নিয়ে দ্বিতীয় কোনো মামলার রায় হতে যাচ্ছে আজ।

ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এর আগে গত ২০ জানুয়ারি এ মামলার রায় ঘোষণা করার কথা ছিল। তবে সেদিন রায় ঘোষণা করা হয়নি। রায় ঘোষণার জন্য নতুন আজ ২৬ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।

রায় ঘোষণার দিন মামলার মোট আট আসামির মধ্যে কারাগারে থাকা চারজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। তারা হলেন- শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন এবং কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।

Advertisement

পলাতক আছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালায় পুলিশ। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।

এ ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২৫ মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে ওই দিন পলাতক চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এরপর ৩ জুন পলাতকদের হাজির করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও হাজির না হলে ১৪ জুলাই আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। তারই ধারাবাহিকতায় ১০ আগস্ট সূচনা বক্তব্যে উপস্থাপন এবং ১১ আগস্ট সাক্ষী গ্রহণ শুরু হয়।

Advertisement

এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে গত ২৪ ডিসেম্বর রায় ঘোষণার জন্য গত ২০ জানুয়ারি দিন ঠিক করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তবে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় পরে তা পেছানো হয় বলে জানায় প্রসিকিউশন।

এর আগে গত বছরের ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল থেকে জুলাই আন্দোলনের প্রথম রায় এসেছিল। ওই রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার অপর আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাবেক আইজিপি মামুন নিজের অপরাধ স্বীকার করে ওই মামলায় অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হয়েছিলেন।

এফএইচ/এসএনআর