মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে আপাতত দৃষ্টিতে যুদ্ধবিরতি চলছে। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর সে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবার পর থেকে অন্তত ১ হাজার ৩০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল। এর মধ্যে ৪৩০ বার বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো এবং ৬০০ বারের বেশি বোমাবর্ষণ বা গোলাবর্ষণের ঘটনা রয়েছে।
Advertisement
আল-জাজিরার প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, অন্তত ৬৬ বার ‘ইয়েলো লাইন’-এর বাইরে আবাসিক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ২০০ বারের বেশি মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস করেছে। এছাড়া গত এক মাসে গাজা থেকে অন্তত ৫০ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েল।
একই সঙ্গে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অত্যাবশ্যক মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা অব্যাহত রেখেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও অবকাঠামো ধ্বংস করছে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্প ২০ দফা শান্তি প্রস্তাব উন্মোচন করেন যা ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়। প্রস্তাবনায় গাজায় আটক থাকা অবশিষ্ট বন্দিদের মুক্তি, অবরুদ্ধ উপত্যকায় সম্পূর্ণ মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি, এবং তিন ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
Advertisement
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ও স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলোর ৬ হাজারের বেশি যোদ্ধা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে ইসরায়েলের ভেতরে ঢুকে পড়ে। 'অপারেশন আল আকসা ফ্ল্যাড' এর মাধ্যমে ইসরায়েলের সিদরাতে চলা সুক্কোত উৎসব থেকে ২৫০ জনের বেশি ইসরায়েলি নাগরিককে জিম্মি করে নিয়ে যায় হামাস।
এ হামলার পর ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) 'অপারেশন আয়রন সোর্ড' পরিচালনা করে গাজা উপত্যকাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে যেখানে ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনির বসবাস ছিল। মাত্র ৩২০ বর্গ কিলোমিটারের উপত্যকার ওপর ১ লক্ষ টনের বেশি বিস্ফোরক নিক্ষেপ করেছে আইডিএফ।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজার ৩০০ জনের বেশি গাজাবাসীকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এছাড়া দখলদার বাহিনীর হামলায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।
ইউনিসেফের তথ্য মতে, এ যুদ্ধে ২০ হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ৪২ হাজারের বেশি শিশু যাদের মধ্যে অন্তত ২১ হাজার শিশু স্থায়ীভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
Advertisement
কে এম