একইসঙ্গে তফসিল ঘোষণা হলেও সীমানাসংক্রান্ত আইনি জটিলতায় থেমে যায় পাবনা ১ ও ২ আসনের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। তবে আইনি জট খোলার পর অবশেষে প্রতীক পেলেন আসন দুটির ৯ প্রার্থী। ভোট হবে ১২ ফেব্রুয়ারিতেই।
Advertisement
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা।
এসময় রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, সীমানাসংক্রান্ত আইনি জটিলতায় আসন দুটির নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ আসে আদালত থেকে। তবে সে জটিলতা কাটার পর পুনঃতফসিলে আজ প্রতীক পেলেন প্রার্থীরা। এরমধ্যে পাবনা-১ আসনে একজন স্বতন্ত্রসহ ৫ ও পাবনা ২ আসনে চারজন দলীয় প্রার্থী রয়েছেন। পাবনা-১ এ একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় তার পছন্দের প্রতীক মোটরসাইকেল দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র বলছে, পাবনা ১ আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। এরমধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদুল হক, খায়রুন নাহার খানম ও তাজুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে আপিলে খায়রুন নাহার খানম ও তাজুল ইসলাম প্রার্থিতা ফিরে পেলেও বিএনপির দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে খায়রুন নাহার খানম প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন। একইভাবে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদও বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বিএনপির শামসুর রহমান, জামায়াতের ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন ও ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল গনি দলীয় প্রতীক বুঝে পান।
Advertisement
এছাড়া পাবনা-২ আসনে মনোনয়ন দাখিল করা বিএনপির একেএম সেলিম রেজা হাবিব, জামায়াতের হেসাব উদ্দিন, জাতীয় পার্টির মেহেদী হাসান রুবেল, ইসলামী আন্দোলনের আফজাল হোসেন খান কাশেমী ও গণফোরামের শেখ নাসির উদ্দিনের মনোনয়নের বৈধতা পাবার পর দলীয় প্রতীক পেয়েছেন।
প্রতীক পাবার পর পাবনা-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, সীমানাসংক্রান্ত আইনি জটিলতার নামে নির্বাচন নিয়ে একটি পক্ষের চক্রান্ত ছিল। সেটির অবসান ঘটেছে। তবে ষড়যন্ত্র থেমে নেই।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসর অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে দলে নিয়ে তাকে নির্বাচনি মাঠে নামিয়ে নির্বাচন পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা চলছে। নির্বাচন বানচালে ফ্যাসিবাদীদের যে প্রকাশ্য ঘোষণা এটি সেই ষড়যন্ত্রের অংশ। প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। নাহলে একে কেন্দ্র করে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায় প্রশাসনকে নিতে হবে।
এ আসনের বিএনপি প্রার্থী শামসুর রহমান বলেন, আবু সাইয়িদ ফ্যাসিবাদ না। তিনি দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদী দল থেকে দূরে ছিলেন। একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের দলে এসেছেন। তাকে এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না, এমন হুমকি ধামকি দেওয়া হচ্ছে। এতবড় দুঃসাহস দেখানো উচিত না। এখন তিনি আমাদের দলের লোক। একে অপরের সহযোগিতায় আমরা কাজ করবো। বিজয় নিয়ে আমরা আশাবাদী।
Advertisement
আলমগীর হোসাইন নাবিল/এমএন/এমএস