রিয়েলিটি শো থেকে পথচলা শুরু। তারপর কয়েক বছরের নীরব সাধনা-সুরকার প্রীতম চক্রবর্তীর কাছে কাজ শিখে নিজেকে গড়ে তোলা। সেই তরুণ শিল্পীই পরে হয়ে উঠেছেন ভারতীয় সিনেমার গানের অন্যতম নির্ভরযোগ্য কণ্ঠ-অরিজিৎ সিং। হিন্দি থেকে বাংলা, যে ভাষাতেই গান গেয়েছেন, বেশিরভাগই জায়গা করে নিয়েছে শ্রোতাদের হৃদয়ে। অথচ সেই তিনিই এবার সিনেমার প্লেব্যাক জগৎ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
Advertisement
গায়কের এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই মন ভেঙেছে অনুরাগীদের। প্রশ্ন উঠছে-হঠাৎ কেনো এই সিদ্ধান্ত? সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘ধুরন্ধর’সিনেমায় অরিজিতের গাওয়া ‘গহেরা হুয়া’ এখনো শ্রোতাদের মুখে মুখে। একইভাবে বাংলা সিনেমা ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’-তে তার গাওয়া ‘ক্ষণে গোরাচাঁদ ক্ষণে কালা’ গানটিও পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তিনি বরাবরই নিজের শর্তে কাজ করেন। এমনকি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীরাও তার সঙ্গে গান গাইতে জিয়াগঞ্জে তার বাড়িতে ছুটে আসেন-এমন নজিরও রয়েছে।
ভাগনে-ভাগনির কণ্ঠে দেশাত্মবোধের সুর, আবেগঘন ভিডিওতে সালমানএত জনপ্রিয়তা, সাফল্য, সিনেমার প্লেব্যাক থেকে বিপুল আর্থিক প্রাপ্তি-সবকিছু থাকা সত্ত্বেও কেন এই বিদায়ের সিদ্ধান্ত?
অরিজিৎ নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ সেই উত্তর দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন,“এমন একটা সিদ্ধান্ত নেব, অনেক দিন ধরেই ভেবেছিলাম। অবশেষে সাহস জোগাড় করতে পেরে ঘোষণা করলাম। সোজাভাবে বলতে গেলে, আমার খুব সহজেই একঘেয়েমি চলে আসে। যে কারণে আমি আমার গানের অ্যারেঞ্জমেন্ট প্রায়ই বদলে বদলে মঞ্চে পারফর্ম করি। সেই কারণে আমি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি, নতুন ধরনের সংগীতের খোঁজে নামছি।”
Advertisement
অর্থাৎ, তার এই সরে দাঁড়ানো কোনো অভিমান বা বিতর্কের ফল নয়; বরং সৃষ্টিশীল তাগিদ থেকেই নতুন পথ খুঁজতে চান তিনি।
তবে ভক্তদের জন্য স্বস্তির খবরও দিয়েছেন অরিজিৎ। গান পুরোপুরি ছাড়ছেন না তিনি। বরং নতুন ধরনের সংগীত, নতুন শিল্পীদের কাজ শোনা এবং ভিন্ন ধারার সৃষ্টির মধ্যেই নিজেকে খুঁজে নিতে চান। পোস্টের শেষে তিনি আরও লিখেছেন,“আমি আসলে নতুন ধরনের গায়ক-গায়িকাদের গান শুনতে চাই। যারা আমাকে অনুপ্রাণিত করতে পারবেন।”
আরও পড়ুন:
সিনেমার গান থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা অরিজিতেরএছাড়া চলতি বছরে তার আগেই রেকর্ড করা কিছু নতুন গান মুক্তি পেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ফলে প্লেব্যাক জগৎ থেকে সরে দাড়ালেও, সংগীত দুনিয়ায় অরিজিতের উপস্থিতি যে থাকছেই-তা বলাই যায়।
Advertisement
এমএমএফ