কিছুক্ষণ কাজ করলেই ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যাচ্ছে এটা এখন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে পরিচিত ও বিরক্তিকর সমস্যাগুলোর একটি। সকালে ফুল চার্জ দিয়ে বেরিয়েও দেখা যায়, দুপুরের আগেই ব্যাটারি প্রায় শূন্য। অফিসের কাজ, অনলাইন ক্লাস, ভিডিও কল, নেভিগেশন কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া সবকিছুতেই ফোনের উপর নির্ভরতা বাড়লেও ব্যাটারির স্থায়িত্ব অনেক সময় সেই চাপ নিতে পারে না।
Advertisement
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এর জন্য শুধু ফোনই দায়ী, নাকি আমাদের ব্যবহার অভ্যাসেও সমস্যা আছে? এই ফিচারে জেনে নেওয়া যাক কেন ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হয় এবং কী করলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
১. প্রথমেই বুঝে নেওয়া দরকার, স্মার্টফোনের ব্যাটারি একটি সীমিত ক্ষমতার হার্ডওয়্যার। প্রতিটি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিরই একটি নির্দিষ্ট চার্জ সাইকেল থাকে। সাধারণত ৫০০ থেকে ৮০০ চার্জ সাইকেলের পর ব্যাটারির সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। অর্থাৎ, আপনি যত পুরোনো ফোন ব্যবহার করছেন, তার ব্যাটারি তত দ্রুত চার্জ হারাবে এটা স্বাভাবিক। তবে অনেক সময় নতুন ফোনেও এই সমস্যা দেখা যায়, যার পেছনে থাকে সফটওয়্যার সেটিংস ও ব্যবহার প্যাটার্ন।
২. ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হওয়ার অন্যতম বড় কারণ হলো ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ। আমরা অনেক সময় ব্যবহার শেষ করার পরও অ্যাপ পুরোপুরি বন্ধ করি না। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, গুগল ম্যাপস, ফিটনেস ট্র্যাকার কিংবা ই-মেইল অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে এবং নিয়মিত ডেটা সিঙ্ক করে। এর ফলে স্ক্রিন বন্ধ থাকলেও ব্যাটারি ক্ষয় হয়। বিশেষ করে যেসব অ্যাপ লোকেশন ব্যবহার করে, সেগুলো ব্যাটারির উপর সবচেয়ে বেশি চাপ ফেলে।
Advertisement
৩. স্ক্রিন বা ডিসপ্লেও ব্যাটারি খরচের বড় উৎস। উজ্জ্বল স্ক্রিন, বড় রেজোলিউশন এবং উচ্চ রিফ্রেশ রেট (৯০হার্জ বা ১২০হার্জ) ফোনকে দ্রুত চার্জ শেষের দিকে ঠেলে দেয়। অনেকেই দিনের পর দিন অটো-ব্রাইটনেস বন্ধ রেখে সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতায় ফোন ব্যবহার করেন। আবার অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে, লাইভ ওয়ালপেপার বা অ্যানিমেটেড থিম থাকলেও চার্জ দ্রুত কমে যায়।
৪. ইন্টারনেট সংযোগও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুর্বল নেটওয়ার্ক এলাকায় থাকলে ফোন বারবার সিগন্যাল খোঁজে, যা ব্যাটারির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে মোবাইল ডেটা চালু রেখে নেটওয়ার্ক দুর্বল হলে চার্জ দ্রুত ফুরিয়ে যায়। একইভাবে ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই, হটস্পট বা এনএফসি প্রয়োজন ছাড়া চালু রাখলেও ব্যাটারি নষ্ট হয়।
৫. আরেকটি বড় কারণ হলো চার্জ দেওয়ার ভুল অভ্যাস। অনেকেই ফোন ০ শতাংশে নামা পর্যন্ত ব্যবহার করেন, আবার অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে ১০০ শতাংশে চার্জে লাগিয়ে রাখেন। এই দুই অভ্যাসই ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত গরম অবস্থায় চার্জ দেওয়া বা সস্তা চার্জার ব্যবহার করলেও ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমে যায়।
এবার আসা যাক সমাধানে। জেনে নেই কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করবেন-
Advertisement
১. ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ করা খুব জরুরি। ফোনের সেটিংসে গিয়ে ব্যাটারি ইউসেজ চেক করুন কোন অ্যাপ সবচেয়ে বেশি চার্জ খাচ্ছে তা দেখুন। প্রয়োজন না হলে সেই অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাক্টিভিটি সীমিত করুন বা আনইনস্টল করুন। অটো সিঙ্ক অপশনও বন্ধ রাখতে পারেন।
২. স্ক্রিন সেটিংস ঠিক করুন। অটো-ব্রাইটনেস চালু রাখুন, প্রয়োজন না হলে উচ্চ রিফ্রেশ রেট বন্ধ করুন। অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে ও লাইভ ওয়ালপেপার এড়িয়ে চলুন। ডার্ক মোড ব্যবহার করলে অ্যামোলেড স্ক্রিনে ব্যাটারি সাশ্রয় হয়।
৩. কানেক্টিভিটি ব্যবহারে সচেতন হোন। দুর্বল নেটওয়ার্কে থাকলে প্রয়োজনে এয়ারপ্লেন মোড চালু করুন। ব্লুটুথ, জিপিএস ও হটস্পট শুধু দরকার হলে চালু রাখুন। লোকেশন সেটিংসে গিয়ে “অ্যালাউ অনলি হোয়াইল ইউজিং দ্য অ্যাপ” অপশন বেছে নিন।
৪. চার্জ দেওয়ার সঠিক নিয়ম মেনে চলুন। ফোনের চার্জ ২০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। রাতে চার্জে লাগিয়ে রেখে ঘুমানো অভ্যাস বদলান। সম্ভব হলে কোম্পানির আসল চার্জার ও কেবল ব্যবহার করুন এবং অতিরিক্ত গরম হলে চার্জ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৫. সফটওয়্যার আপডেট ও ব্যাটারি হেলথ নজরে রাখুন। অনেক সময় সফটওয়্যার বাগের কারণে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়, যা আপডেটের মাধ্যমে ঠিক হয়ে যায়। ফোন পুরোনো হলে ব্যাটারি পরিবর্তন করাও একটি বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে।
আরও পড়ুনএআইতে ঝুঁকছে মেটা, এক হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাইফোনের স্ক্রিন মাঝে মাঝেই সাদা-কালো হচ্ছে, যা করবেন
কেএসকে